অবশেষে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেওয়া সেই শম্পার পরিচয় মিলেছে

নুসরাত জাহান রাফি

শম্পা নামটি আলোচনায় আসে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলীম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ই এপ্রিল চিকিৎসকদের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে (ডাইং ডিক্লারেশন) ‘শম্পা’ নামটি উল্লেখ করেন নুসরাত।

চিকিৎসকদের তিনি বলেন, হাত মোজা, চশমা ও বোরকা পরা চারজন তাকে মাদরাসা ভবনের তিন তলার ছাদে ডেকে নেয়।

পরে এই চারজন নুসরাতের দুই হাত পেছনে ওড়না দিয়ে বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এদের মধ্যে একজনকে বাকিরা ‘শম্পা’ বলে সম্বোধন করেন। চিকিৎসকদের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে এমন কথা বলেন নুসরাত। তার দেয়া এমন জবানবন্দির পর শম্পাকে ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। অবশেষে শম্পা ওরফে চম্পাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ৯ এপ্রিল ‘শম্পা’ সন্দেহে মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ও নুসরাতের সহপাঠী উম্মে সুলতানা পপিকে আটক করে পুলিশ। আটক পপি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাহর ভাগ্নি এবং অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করার পর তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনেও সে নেতৃত্ব দিয়েছিল।

এদিকে নুসরাত হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এজাহারভুক্ত আসামি নুরুদ্দিন ও শাহাদাত পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

নুরুদ্দিন জানিয়েছে, তার সঙ্গে অধ্যক্ষ সিরাজের ভালো সম্পর্ক ছিল। এ কারণে তার নির্দেশে তারা পরিকল্পনা করে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ঘটনার সময় সে ভবনের নিচে ছিল। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষ সিরাজের ভাগনি পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়।

মূলত এই পপিই হলো নুসরাতের জবানবন্দিতে বলে উল্লিখিত আলোচিত শম্পা। পুলিশ ও নুসরাতের পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে শম্পা নামে কল্পিত চরিত্রের গল্প ফাঁদে নুরুদ্দিন।

নুসরাতের প্রতি নিজের ক্ষোভ থাকার কথা উল্লেখ করে শাহাদাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেছে, দেড় মাস আগেও সে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তুনুসরাত তাকে প্রত্যাখান করার পাশাপাশি অপমানও করে।

এ কারণে সে নিজেও নুসরাতের প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। যার ফলে অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।