স্ত্রীর কোনো কিছু অপছন্দ হলে স্বামীর যা করণীয়

দোষ-গুণ মিলেই মানুষ। প্রত্যেকের মধ্যেই কিছু না কিছু দোষ থাকে, আবার অনেক গুণও থাকে মানুষ। স্ত্রীর মধ্যেও এমন কিছু পরিলক্ষিত হতে পারে যা স্বামীর কাছে অপছন্দ লাগবে। স্ত্রীর মধ্যে যদি এমন কিছু পরিলক্ষিত হয় যা স্বামীর কাছে অপছন্দ লাগে এবং তার কারণে স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করার সুযোগ পায় বা তাকে ছেড়ে দিতে মন চায় কিংবা তার প্রতি ভালোবাসা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনাবোধ হয়, সে মুহূর্তে এই অবস্থার প্রতিকারের জন্য স্বামীকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো চিন্তায় আনা উচিত।

স্ত্রীর অন্যান্য গুণাবলীর কথা চিন্তা করে তার প্রতি মুগ্ধ হওয়ার চেষ্টা করা। এই চিন্তা করা যে, এসব দোষ দেখেও যদি ধৈর্য ধারণ করা হয়, তাহলে সওয়াব হবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। অতএব আল্লাহ আমাকে এ স্ত্রী দান করে আমার প্রতি অনুগ্রহই করেছেন। আমার সওয়াব লাভ ও মর্যাদা বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছেন।

নিজের কিছু দোষ-ত্রুটির কথা স্মরণ করে ভাববে যে, আমার এসব দোষ-ত্রুটি সত্ত্বেও তো স্ত্রী আমাকে ভালোবেসে যাচ্ছে, সে ধৈর্য ধারণ করে যাচ্ছে তাহলে আমি কেন তার দোষ-ত্রুটি দেখে ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। আমি কেন এসব সত্ত্বেও তাকে ভালোবাসতে পারব না?

একান্ত তাকে ছেড়ে দিতে মনে চাইলে এই চিন্তা করবে যে, আমি তাকে ছেড়ে দিলে সে অন্য কোনো মুসলমান ভাইয়ের ঘরে যাবে এবং তার কষ্টের কারণ হবে। অতএব তাকে রেখে দিলে অন্য ভাইকে কষ্ট পাওয়া থেকে রক্ষা করার সওয়াব পাওয়া যাবে। অন্যথায় অন্য ভাইকে কষ্ট দেয়ার জন্য আমিও দায়ী হয়ে যাই কি না?

স্ত্রীর এমন কোনো কিছুর কারণে যদি তাকে অপছন্দ লাগে, যা তার ইচ্ছার বহির্ভূত; যেমন স্বামী তার ছেলে কামনা করে অথচ স্ত্রীর গর্ভে শুধু কন্যাই জন্ম নেয় বা তার সন্তানই হয় না। কিংবা স্ত্রীর একের পর এক রোগ ব্যাধি লেগে থাকে ইত্যাদি আর এ কারণে যদি স্ত্রীকে স্বামীর অপছন্দ লাগে তাহলে স্বামীর ভেবে দেখতে হবে যে, এ অপছন্দ লাগার জন্য স্ত্রী দায়ী নয়।

এতে স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। এ ক্ষেত্রে রাগ করা হলে এ রাগ মূলত তাকদিরের উপর এবং আল্লাহর ফায়সালার ওপর বিরুদ্ধাচারণ হয় যা মারাত্মক অন্যায়। তাকদিরের ওপর সন্তুষ্টি এবং তাকদিরের ওপর যথার্থ বিশ্বাস স্থাপন করার মাধ্যমেই এরকম অপছন্দ লাগাকে দূর করা সম্ভব।

এই চিন্তা করবে যে, আমরা আল্লাহর কত নাফরমানি করি, আল্লাহর অপছন্দ লাগার কত কাজ করি, তারপরও আল্লাহ আমাদের সাথে করুণার আচরণ করেন। আল্লাহর এ চরিত্রে চরিত্রবান হয়ে আমরাও উচিত করুণার আচরণ করা।