জুলাইয়ে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট

মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) বদলে আগামী জুলাই থেকে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) প্রবর্তন করতে যাচ্ছে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ১০ বছর।

তবে এর জন্য ফি গুনতে হবে দ্বিগুণ। পাশাপাশি ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টও প্রদান কর হবে। বর্তমানে সাধারণ পাসপোর্টের ফি ৩৪৫০ টাকা ও জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৬৯০০ টাকা রয়েছে। ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতিজরুরি সেবা যোগ করার প্রস্তাব করেছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। যদিও ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ এর জন্যও গুনতে হবে আলাদা ফি।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার গাইড লাইন অনুসারে ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি কার্যক্রম চালু হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে দেশে ও বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনে এমআরপি ইস্যু করা হচ্ছে। তবে জুলাইয়ে যে ই-পাসপোর্ট চালু করা হবে, সেটি আরও বেশি আধুনিক। এতে কম্পিউটারে পাঞ্চ করে পড়া যায় এমন একটি চিপের মধ্যে একজন নাগরিকের পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকে।

এটি একজন নাগরিকের তথ্য সংরক্ষণের অত্যাধুনিক পদ্ধতি। তবে চিপের পাশাপাশি এতে কাগজের অংশও থাকবে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাধারণ নাগরিকরা জুলাই থেকে ই-পাসপোর্টের সুবিধা পাবেন। নাগরিকদের হাতে এই পাসপোর্ট তুলে দিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রকল্পটি চলতি অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে, যা শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে।

পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নেই এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে পাসপোর্টের ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্ট ইস্যু, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাংলাদেশি ও আগত বিদেশি নাগরিকদের সুষ্ঠুভাবে গমনাগমন নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে একজন পাসপোর্টধারীর নম্বর সার্চের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব তথ্য পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমআরপি ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তির দশ আঙুলের ছাপ ডেটাবেসে সংরক্ষণ না থাকায় একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে। ফলে ই-পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে অনুভব করে সরকার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফরের সময় ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সে দেশের প্রতিষ্ঠান ভ্যারিডোস জিএমবিএইচ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ই-পাসপোর্ট চালুর।