আইসিসির সেরা একাদশে সাকিব

বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের খেতাব পাননি। তবে আইসিসির দেয়া সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এ দলে সর্বোচ্চ চার ক্রিকেটার আছে ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপে নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্সে পুরো বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন সাকিব। ব্যাট হাতে ৮ ম্যাচে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গড় ৮৬’তে তিনি করেছেন ৬০৬ রান। আছে ২ সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটি। পাশাপাশি নিয়েছেন ১১ উইকেটও।

টুর্নামেন্ট সেরার অন্যতম দাবিদার হলেও, শেষ পর্যন্ত পুরস্কার গেছে কেইন উইলিয়ামসনের হাতে। তবে বিশ্বকাপের সেরা একাদশে ঠিকই আছেন সাকিব। যেখানে ওপেনার হিসেবে আছেন জেসন রয় ও রোহিত শর্মা। তিনে কেইন উইলিয়ামসন। চার ও পাঁচে যথাক্রমে জো রুট ও সাকিব আল হাসান। এরপর ফাইনালের ম্যাচ সেরা বেন স্টোকসের। উইকেটরক্ষক অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারি। আর দলের চার পেসার হলেন, মিচেল স্টার্ক, জোফরা আর্চার, লোকি ফার্গুসন ও জাসপ্রিত বুমরাহ।  এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার।

নায়ক হয়েও পার্শ্ব চরিত্রে সাকিব!: বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করেও আসর সেরার খেতাব পেলেন না সাকিব আল হাসান। পুরস্কার বিতরণী পর্বে রোহিত শর্মা, ডেভিড ওয়ার্নারের পাশাপাশি সাকিবের নাম উচ্চারিত হলেও টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার জিতেছেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ হাফ সেঞ্চুরিতে সাকিব করেছেন ৬০৬ রান আর বল হাতে ১১ উইকেট নিয়ে গড়েছেন অনন্য রেকর্ড।

উপস্থাপকের একটা ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন কোটি বাংলাদেশি। সাকিবের হাতে উঠবে টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার! ভাষ্যকারের কণ্ঠে উচ্চারিও হয়েছে তার নাম। তবে সাকিবের কৃতিত্ব টাইগারদের তুলতে পারেনি ফাইনাল কিংবা সেমির মঞ্চে! তাই নায়ক হয়েও বিশ্বকাপে তিনি পার্শ্ব চরিত্রে! এবারের আসরে নিজেকে যেভাবে মেলে ধরেছেন সাকিব, তাতে গোটা ক্রিকেট বিশ্বটাই যে এখন তার ভক্তকুল। আর তাই সবার আশা ছিল ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের যোগ্য দাবিদার বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার।

যদিও সেটা জেতা হয়নি সাকিবের, কিন্তু অগনিত ক্রিকেট ভক্তের হৃদয় তিনি হরণ করেছেন ঠিকই! এবারের আসরে সাকিব যখন নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন তখন ৬০৬ রান নিয়ে তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে টাইগাররা সেমির মঞ্চে খেলার যোগ্যতা হারালে সাকিবকেও হারাতে হয় সে স্থান। যদিও বিশ্বকাপটা তিনি শেষ করেছেন শীর্ষ তিনে থেকে। একটা জায়গায় তাকে পেছন ফেলতে পারেনি কেউ। সেটা ৮৬.৫৭’র টুর্নামেন্ট সেরা গড়!

বল হাতে সাকিব শিকার করেছিলেন ১১ উইকেট। এর মধ্যে ছিলো এক ইনিংসেই পাঁচ উইকেট ও ফিফটি করা বিরল এক রেকর্ড। এছাড়াও ক্রিকেট দুনিয়ায় সাকিব একমাত্র খেলোয়াড়, যার ঝুলিতে আছে বিশ্বকাপে ৩০ প্লাস উইকেট ও এক হাজার উর্ধ্ব রান।এবারের আসর তো সাঙ্গ হলো। সামনেরটার জন্য আবার বছর চারেকের অপেক্ষা। এই সময়ে বদলাবে অনেক কিছু।

হয়ত টাইগারদের জার্সি গায়ে সাকিব আবারো মাঠ মাতাবেন! হয়তো না! সম্ভাবনার এই কথাগুলো তোলা থাকা। এ কথা তো অবলীলায় স্বীকার করে নেয়া যায়, ব্রিটিশ বিশ্বকাপে যা করেছেন তিনি, সেটা স্মৃতির গহ্ববরে থেকে যাবে অনন্তকাল।