বিশ্বকাপ ফাইনালে ওভার-থ্রো নিয়ে তীব্র বিতর্ক

সদ্য সমাপ্ত আইসিসি বিশ্বকাপের শুরু থেকে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছে৷ আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর৷ দু’টি সেমিফাইনাল তো বটেই, এমনকি ফাইনাল ম্যাচও বাদ গেল না সেই তালিকা থেকে৷ বরং বলা ভালো ফাইনালের বিতর্কিত অধ্যায় বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্যটাই৷ বিতর্কের কেন্দ্রে ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষ ওভারের ওভার-থ্রো৷ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৫ রান৷

ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম দু’বলে কোনো রান নিতে পারেননি বেন স্টোকস৷ তৃতীয় বলে ছক্কা মারেন তিনি৷ চতুর্থ বলে ভাগ্যের জোরে ৬ রান পেয়ে যায় ব্রিটিশরা৷ দু’রান নেয়ার সময় রান-আউট থেকে বাঁচতে ডাইভ মারেন ব্যাটসম্যান স্টোকস৷ গাপ্তিলের ছোঁড়া বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারিতে চলে যায়৷ শেষ দু’বলে জয়ের জন্য ৩ রান দরকার ছিল ব্রিটিশদের৷ পঞ্চম বলে ২ রান নেয়ার সময় রান-আউট হন আদিল রশিদ৷ শেষ বলেও একইভাবে ২ রান নেয়ার সময় রানআউট হন মার্ক উড৷ ফলে শেষ ২টি বলে ২ রান সংগ্রহ করে কোনো রকমে ম্যাচ টাই করতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড এবং ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে৷

সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই হলে ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি মারার জন্য ইংল্যান্ড বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়৷ এখন প্রশ্ন হলো, ওভার-থ্রো’র সৌজন্যে ইংল্যান্ড ৬ রান না পেলে ম্যাচ টাই হতো কী না সন্দেহ৷ টেলিভিশন রিপ্লে’তে স্পষ্ট দেখা যায় যে, ডিপ মিডউইকেট থেকে মার্টিন গাপ্তিল বল ছোঁড়ার সময় স্টোকস ও তার ননস্ট্রাইকার পার্টনার আদিল রশিদ দ্বিতীয় রানের জন্য পরস্পরকে ক্রস করেননি৷ আইসিসি’র নিয়ম (১৯.৮) অনুযায়ী ওভার থ্রো’র বাউন্ডারির ক্ষেত্রে ফিল্ডার বল ছাড়ার মুহূর্তে ব্যাটসম্যানরা পরস্পরকে ক্রস করলে তবেই তাদের ফিল্ড রান যোগ হবে ওভার-থ্রো’র বাউন্ডারির সঙ্গে৷

তাই যদি হয়, তবে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে ওভার-থ্রো’র বাউন্ডারির সঙ্গে বাড়তি এক রান যোগ হওয়া উচিত৷ অথচ ফিল্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ৬ রানের (২টি ফিল্ড রান ও ওভার-থ্রো’র চার) সংকেত দেন৷ এক রান কম হলে শেষ ২ বলে জয়ের জন্য তিনের বদলে ৪ রান দরকার হতো ব্রিটিশদের৷ ম্যাচের ছবিটা তখন বদলে যেতেও পারত৷ বেন স্টোকস অবশ্য এমন অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন তথা গোটা নিউজিল্যান্ড দলের কাছে৷ তিনি স্পষ্ট জানান যে, এই ওভার-থ্রো’র জন্য সারা জীবন তিনি নিউজিল্যান্ডের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী থাকবেন৷

উইলিয়ামসন অবশ্য বিষয়টিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরের’ বলে খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতায় গ্রহণ করেন৷ ইংল্যান্ড অধিনায়র ইয়ন মর্গ্যান বলেন, ‘এটা এমন একটা বিষয়, যার জন্য উচ্ছ্বসিত হওয়া যায় না৷ নিউজিল্যান্ডের জায়গায় আমরা থাকলে পরিস্থিতিটা কেমন হতো, ভাবতেই খারাপ লাগছে৷’