নিজেকে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ‘ঘৃণিত বাবা’ বললেন স্টোকসের বাবা!

লর্ডসে বিশ্ব দেখেছে দুর্দান্ত এক ফাইনাল। যে ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড সংগ্রহ করে ২৪১ রান। লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডও থামে ২৪১ রানে। এর পর খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে দুই দলই সংগ্রহ করে ১৫ রান। কিন্তু ইংল্যান্ড তাদের ইনিংসে বাউন্ডারি বেশি হাঁকানোতে তাদের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। এ জয়ের নায়ক বেন স্টোকস। বেন স্টোকসের জন্ম নিউজিল্যান্ডে। তার বাবা-মা এখনও বাস করেন নিউজিল্যান্ডে।

ফাইনালের আগে তার বাবা জেরার্ড স্টোকস জানিয়েছিলেন, এ ম্যাচে ছেলের হার কামনা করতে হবে। জেরার্ড যে মনেপ্রাণে নিউজিল্যান্ডের সমর্থক। শেষ পর্যন্ত বাবার ইচ্ছে পূরণ হয়নি। উল্টো ছেলের অসাধারণ নৈপুণ্যের কাছে হার মেনেছে বাবার ইচ্ছা। শুধু কি তাই, জেরার্ড স্টোকস এখন নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত বাবাও! ফাইনালে বেন স্টোকসের ৮৪ রানে ভর করে ম্যাচটা শেষ বল পর্যন্ত টেনে নিতে পেরেছে ইংল্যান্ড। সুপার ওভারে ইংল্যান্ড যে ১৫ রান করেছে, তার মধ্যে ৮ রানই স্টোকসের।

তাই কৌতুক করেই স্টোকসের বাবা জানালেন, ছেলে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটপ্রেমীদের স্বপ্ন চূর্ণ করায় তিনি এখন সেখানে সবচেয়ে ঘৃণিত বাবা। ক্রাইস্টচার্চে নিজেদের ঘরে বসে ফাইনাল দেখেছেন স্টোকসের বাবা-মা জেরার্ড ও ডেবোরাহ। নিউজিল্যান্ড রাগবি জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় জেরার্ড। দেশটির হয়ে রাগবি টেস্টও খেলেছিলেন একটি। অবশ্য খেলোয়াড় হিসেবে যতটা, তার চেয়েও বেশি নাম কুড়িয়েছিলেন কোচ হিসেবে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই কালকের ফাইনালে তার জন্মভূমিকে সমর্থন করার কথা। ডেবোরাহও সমর্থন দিয়েছেন কেন উইলিয়ামসনের দলকে। নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ওয়ান নিউজকে জেরার্ড বলেছেন , ‘দু-একজন বলেছে, এ মুহূর্তে আমি নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ঘৃণিত বাবা। তবে কেউ সীমা ছাড়ায়নি বলেই মনে হয়।’ ম্যাচ শেষে আবেগে কেঁদেছেন স্টোকসের মা ডেবোরাহ, ‘খেলা শেষে খুব কেঁদেছি। ব্ল্যাক ক্যাপসের জন্য খারাপ লেগেছে। এটা ড্র হলে সবচেয়ে ভালো হতো।’

বেন স্টোকস ইংল্যান্ডে থিতু হলেও তার বাবা-মা ২০১৩ সাল থেকে ক্রাইস্টচার্চে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। জেরার্ড এখন ক্রাইস্টচার্চে ছেলেদের জেলখানায় কনস্ট্রাকশন প্রোগ্রাম সুপারভাইজার।

ছেলের জয় আর নিজের পছন্দের হার নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্ল্যাক ক্যাপসদের জন্য সত্যি খারাপ লাগছে। তবে বেনের জন্য আনন্দে আত্মহারা হলেও আমি এখনো নিউজিল্যান্ডেরই সমর্থক। এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা ক্রিকেট ম্যাচ। নাটকীয় সব রকম উপাদানই ছিল।’