নিয়মিত কোরআন পাঠ করার কারনেই আল্লাহ আমার চোখের দৃষ্টি শক্তি অক্ষুন্ন রেখেছেন : ১২০ বছরের বৃদ্ধা

বয়সের ভার এখনো কাহিল করতে পারেনি নরসিংদীর জয়নাবেন নেছাকে। ‘বয়স ১২০ বছর’। ১৮৯৫ সালে তার জন্ম। এখনো অনেক ৫০-৬০ বছর বয়স্ক মানুষের চেয়ে বেশি সুস্থ বলা যায় তাকে। চশমা ছাড়াই পড়তে ও লিখতে পারেন তিনি। দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াত করেন। সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করছেন নরসিংদীর পুরানদিয়া গ্রামে ১৮৯৫ সালে জন্ম নেয়া জয়নাবেন নেছা।

১৯০৮ সালে একই পুরানদিয়া গ্রামের জিন্নত আলীর সাথে তার বিয়ে হয়। জয়নাবেন নেছার স্বামী আর বেচে না থাকলেও এখনো সুস্থ্যভাবে জীবনযাপন ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন তিনি। জয়নাবেন নেছা আল্লাহর দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করে জানায়, “আমি অনেক ভালো আছি। এখনো খালি চোখে পড়তে ও লিখতে পারি। সবসময় আল্লাকে স্মরণ করি ও কোরআন পাঠ করি। কোরআন পাঠ করার কারনেই আল্লাহ আমার চোখের দৃষ্টি শক্তি অক্ষুন্ন রেখেছেন।”

আরো পড়ুন: এবারের হজে জন্ম নেয়া প্রথম শিশু, মদিনায় জন্ম নেয়ায় নাম রাখা হলো ‘মাদিনা’

আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম মুসলিম পুরুষ ও নারীর জন্য হজ ফরজ। ফরজ হজ পালনে সারা বিশ্ব থেকেই নারী-পুরুষ পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় আগমন করে। এদের মধ্যে অনেক নারী থাকে সন্তান সম্ভবা। প্রতি বছর হজের মৌসুমে অনেক দম্পতির সন্তান ভূমিষ্ট হয় মক্কা ও মদিনায়। সৌদি প্রেস এজেন্সির এক তথ্যে জানা যায় যে, ২০১৯ সালের হজের সফরে আসা এক ভারতীয় দম্পতির কোল আলো করে মদিনায় জন্ম নেয় এক শিশু।

তাই বাবা-মা এ নবজাতকের নাম রেখেছেন ‘মাদিনা’। ধর্মীয় অনুভূতি ও এ পবিত্র নগরীর ভালোবাসায় তারা সন্তানের এ নাম রাখেন। প্রতি বছরই হজের সফরে অনেক নারী সন্তান জন্ম দেয়। এ বছর ভারতীয় এক দম্পতিই প্রথম সন্তান লাভ করেন। সারা বিশ্ব থেকে হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় আসা শুরু করেছে। আশা করা যায়, এ বছর (২০১৯) আগামী ৯ আগস্ট শুরু হবে হজের কার্যক্রম। যা শেষ হবে ১৪ আগস্ট।

আরো পড়ুন: গাছ বিক্রি করে হজের স্বপ্ন পূরণ করলেন এক দরিদ্র কৃষক

গাছ বিক্রি করে হজের স্বপ্ন পূরণ করলেন এক দরিদ্র কৃষক। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে হজের স্বপ্ন পূরণে গাছের পরিচর্যা করেন। গাছ বিক্রির টাকায় সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন এক কৃষক। তিনি ১৮ বছর আগে জমির আইলে লাগিয়েছেন গাছ। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে হজে গেলেন গাইবান্ধার মধ্যবয়স অতিক্রম করা এ কৃষক। বাংলাদেশের গাইবান্ধার জেলার শাদুল্লাপুরের এক কৃষক গাছ বিক্রির টাকায় হজ পালনের উদ্দেশে গিয়েছেন সৌদি আরবে।

ফেসবুকে বৃদ্ধ সম্বোধন করা হলেও, ছবি বলে দেয় যে, তিনি মধ্য বয়স অতিক্রম করছেন।ছবিসহ সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘গাছ বিক্রির টাকায় হজ’-এর এ খবর ভাইরাল হয়ে যায়। আর তা হলো- একজন হাজি সাহেব। বয়সে বৃদ্ধ। এসেছেন হজে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে। হোটেল লবিতে (বারান্দায়) বসে (বৃদ্ধ হাজির সঙ্গে) কথাবার্তা বলছি। (তাকে) খুব আবেগী মনে হলো। জানতে চাইলাম, কি কাজ করেন বাড়িতে? -ক্ষেত-খামার (কৃষি কাজ) করি।

আচ্ছা! তাহলে হজে আসলেন (খরচ মেটালেন) কীভাবে? উত্তর দিলেন, বাবা! ১৮ বছর আগে হজের ইচ্ছা করি। কাবা ঘরটা দেখার শখ ছিল অনেক। হজের উদ্দেশে ১৮ বছর আগে জমি ও ক্ষেতের আইলে ইউক্যালিপটাসসহ কিছু গাছ রোপণ করি। হজ করার আশা নিয়ে গাছের পরিচর্যা করতে থাকি। গাছগুলো বড় হয়। এবার সে গাছগুলোর বেচা টাকা দিয়েই হজে আসলাম। আমি বললাম, ‘মাশাআল্লাহ’। আপনার হজের টাকাটা কত পিওর! কোন হারামের মিশ্রণ নেই। সম্পূর্ণই পরিশ্রমের টাকা।

হাজি সাহেব বলেন, আরেকটু শুনুন! -গাছগুলো বড় হওয়ার পর, প্রায়ই যখন রাত হতো, মানুষ ঘুমিয়ে পড়তো, আমি গাছগুলোর কাছে যেতাম। গাছ ধরে ধরে কাঁদতাম, দোয়া করতাম। আল্লাহ যেন আমাকে হজে নিয়ে যান। একটা গাছের বয়স আঠারো। সেটি বেচে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় হলো। দেরি না করে সেই টাকা দিয়েই হজের রেজিস্ট্রেশন করে ফেলি। – এরপর প্রথমে ২২টা। তারপর ২০ টা গাছ বিক্রি করে হজের টাকা সংগ্রহ করি। কাঁদোকাঁদো হয়ে গেলেন। বললেন, আল্লাহই আমারে নিয়ে এসেছেন।

এরপরে আরও অনেক কথা হলো। আমি কাছ থেকে নিখাদ হৃদয়ের মানুষটাকে দেখতে থাকলাম। ভাবলাম, এসব হাজিদের হজ কবুল হতে আর কত দেরি!’ ফেসবুকের এ পোস্ট ও ব্যক্তির ঘটনাই প্রমাণ করে যে, একনিষ্ঠ ইচ্ছা থাকলে যে কোনো কঠিন কাজই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সফলতায় প্রয়োজন আন্তরিক সদ্বিচ্ছা। আর স্বদিচ্ছা থাকলেই যে কোনো ব্যক্তিই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম।

আল্লাহ তাআলা উল্লেখিত ব্যক্তির হজকে সহজ করে দিন এবং কবুল করুন। মুসলিম উম্মাহকে হজ ও ওমরার তাওফিক দান করুন। আমিন।