প্রিয়া সাহাকে নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করায় প্রিয়া সাহার খেপেছে সারাদেশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত সমালোচনা ঝড় বইছে। ফেসবুকে আলোচিত ব্যারিস্টার সুমনও লাইভে এসে বলেছেন রোববার তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রোদ্রহের মামলা করবেন। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে প্রিয়া সাহার এমন কর্মকান্ড নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে করা অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘তিনি যা বলেছেন সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি যা বলেছেন এ বিষয়ে তথ্য প্রমাণ যদি না পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি যে স্বপ্ন দেখতেন একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ তৈরি হবে, সেটা নির্মাণে আমরা সফল হয়েছি। সেজন্য আজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা আসছে। সেজন্যই তাদের সংখ্যা এখন বেড়েছে। এ সময় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ৮+ থেকে এখন ১০+ হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

প্রিয়া সাহার এ বক্তব্যকে রাষ্ট্রোদ্রোহী অপরাধ বলে দাবি করেছেন অনেকেই। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও জানিয়েছেন।