শুকনো জমি নেই দাফন করার জন্য; জানাজা শেষে পানিতে ভাসিয়ে দিল লাশ

কোথাও একটুকু শুকনো জমি নেই দাফন করার। চারদিকে হাঁটু সমান পানি। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। বাধ্য হয়ে তাই পানিতেই জানাজা শেষে কলার ভেলায় ভাসিয়ে দিয়েছে লাশ। বৃহস্পতিবার রাতে বন্যার পানিতে ভেসে আসা সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় মজিবর রহমান নামে এক বৃদ্ধের। তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে।

চর আমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান জানান, নিজ বাড়িতে মজিবর রহমানকে কামড় দেয় সাপ। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার সময় মৃত্যু হয় তার। গতকাল শুক্রবার সকালে বাড়ির মাঠে হাঁটু সমান পানিতেই তার জানাজা হয়। দাফন করার মতো কোথাও শুকনো জমি না থাকায় কলার ভেলায় করে ভাসিয়ে দেয়া হয় তার লাশ।

আরো পড়ুন: বানের পানিতে দিশেহারা: ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে নদীর পানি বৃদ্ধির প্রভাব পরেছে চরাঞ্চলে। বানের পানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বানবাসীরা ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। শনিবার সকালে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের চর গেপালপুর ও তার পাশের এলাকা ঘুরে এমনই দৃশ্য দেখা যায়। ঘরবাড়ি ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কেউ নৌকায় আবার গবাদী পশু নিয়ে কেউ ছুটছেন। সবার গন্তব্য নিরাপদ আশ্রয়। কেউ আবার মাচাপেতে তার উপরই রান্নার কাজ সারছেন।

চর গেপালপুর গ্রামরে বাসিন্দা হালিম চৌধুরী বলেন, পানি বাড়ার পর পরিবারের সবাই চরকল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আমি গরু নিয়ে বাড়িতে ছিলাম। ঘরে পানি উঠার কারণে নৌকায় শুয়ে রাত কাটিয়েছি। কিন্তু যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে করে আর থাক সম্ভব না। চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মৃধা বলেন, আমার ইউনিয়নের ৪ শত পরিবার পানিবন্দী।

গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের ১৪ টি গ্রামের ১ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। গতকাল ৪০ টি পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে সহায়তার পরিমান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। হরিামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমীর হোসনে খান বলেন, এইচবিবিসহ কাঁচা প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে হাট বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মানুষ। ছয়টি গ্রামের ২ হাজার ২শ’ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান বলেন, ছয়টি গ্রামের ৪ শত পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল সাইদ বলেন, গাজীরটেক ইউনিয়নের ৪০ পরিবার ছাড়া আমাদের কাছে এখনও কোন তালিকা আসেনি। কাজেই বন্যা কবলিত পরিবারের সংখ্যা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। সহায়তার ব্যাপারে তিনি বলেন, জেলা থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে তা এখনও আমাদের কাছে এসে পৌছায়নি। ত্রাণ সামগ্রী পৌছালে আমরা সামগ্রিক ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করবো।