রাসুল (সা:) যে সকল কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন

নিজে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ,ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দুরে থাকা এবং দান-খয়রাতের প্রতি রাসুল (সা.) উৎসাহ দিয়েছেন সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মানবতার মহান মুক্তি দূত দিশারী। হযরত মুহাম্মদকে ( সা.) আল্লাহ ছোবাহানাহু তায়ালা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত সরুপ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, তেমাদের জন্য রাসুলের জীবনীর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ ।

তাঁর প্রতিটি কথা,কাজ , অনুমোদন ,নির্দেশনা , আদেশ,নিষেধ ও উপদেশ দুনিয়া– আখেরাতের কল্যাণের বার্তাবাহী। গোটা মানব জাতির শিক্ষক। তাঁর সে কালজ্বয়ী আদর্শ ও অমিয়বাণী দ্যুতি ছড়িয়ে পথপদর্শন করেছে যুগ যুগান্তরে আলোকিত হয়েছে মানবমণ্ডলী।মহান আল্লাহ ছুবাহানাহুতায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে সুরা জুময়ার ১৩ নং আয়াতে বলেছেন-’ ’অতঃপর নামাজ শেষ হলে তোমরা দুনিয়ার বুকে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর ফজল (জীবীকা) সন্ধান করো’

১) সাহাবি হযরত আবু আব্দুল্লাহ যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলে আকরাম (সা.) বলেছেন তোমাদের কেউ যদি নিজের রশি নিয়ে বজারে চলে যায়, নিজের পিঠে কাঠের বোঝা বহন করে এনে বাজারে বিক্রি করে এবং তার চেহারাকে আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচিয়ে রাখে, তবে এটা তার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ানোর চেয়ে শ্রেয়তর সেক্ষেত্রে মানুষ তাকে ভিক্ষা দিক বা না দিক ।-(বুখারী)

২) সাহাবি হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা. ) বলেছেন, তোমাদের কারো পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে এনে বিক্রি করাটা কারোর কাছে হাত পাতা,তাকে সে কিছু দিক বা না দিক,তার চেয়ে শ্রেয়তর ।-(বুখারী-মুসলিম)

৩) হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা. ) বলেছেন,আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে জীবন ধারণ করতেন। -(বুখারী)

৪) হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা. ) বলেছেন, আল্লাহর নবী যাকারিয়া ছিলেন ছুতার মিস্ত্রি ।-(মুসলিম)

৫) হযরত মিকদাম ইবনে মা’দে কারিবা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, নিজ হাতে উপার্জন করে খাওয়ার চেয়ে উত্তম খাবার কেউ কখনো খায়নি। আল্লাহর নবী নবী দাউদ (আ.) নিজহাতে উর্পাজন করতেন। -(বুখারী)

(ইমাম মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া আন-নববী (রহ.) কতৃক রচিত, হাফেয মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান অনুদিত রিয়াদুসসালেহীন গ্রন্থ থেকে সংকলিত)

গ্রন্থনা: আনোয়ারুল কাইয়ূম কাজল