এবার নোবেলের সমালোচনায় দুই মন্ত্রী

‘সা-রে-গা-মা-পা’ খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সংগীতের চেয়ে প্রিন্স মাহমুদের ‘বাংলাদেশ’ গানটি দেশকে আরও বেশি এক্সপ্লেইন করে এমন মন্তব্য করে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন তিনি। দুই বাংলায় সংস্কৃতি অঙ্গণে তার এহেন মন্তব্যের সমালোচনা হচ্ছে। এবার দেশের দুই মন্ত্রী নোবেলের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন। তারা হলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

রোববার দুপুরে রাজধানীতে ‘ চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুধু পতাকা বা মানচিত্র পাবার জন্য হয়নি। যুদ্ধ হয়েছে মানুষের মুক্তির জন্য। যারা বলে পতাকা বদলাও, যারা বলে জাতীয় সঙ্গীত বদলাও বলে তারা স্বাধীনতাবিরোধী। এদের শেকড় জাতির পিতার খুনীদের সাথে। একই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনে কথা বলুন। বিশেষ করে তরুণরা। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে না বলে সঙ্গীত শিল্পী নোবেল যে মন্তব্য করেছে তা জঘন্য মন্তব্য। এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

কিছুদিন আগে, একটি সাক্ষাৎকারে নোবেল বলেন, প্রিন্স মাহমুদ স্যারের লেখা এই গানটা (বাংলাদেশ) নিয়ে আমি একটা কথা বলবো। তা নিয়ে হয়তো অনেকে অনেক কিছু আমাকে বলতে পারে। হয়তো খারাপ মনে করতে পারে। বাট এটা আমার পারসোনাল অপিনয়ন একদমই। আমি মনে করি যে, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ আমাদের দেশটাকে যতোটা এক্সপ্লেইন করে তার থেকে কয়েক হাজার গুণে বেশি এক্সপ্লেইন করে প্রিন্স মাহমুদ স্যারের লেখা এই গানটা।

আমাদের জাতীয় সঙ্গীত যেটা আছে সেটা হয়তো রূপক অর্থে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়। বাট এটা কিন্তু একদম স্ট্রেইট ফরোয়ার্ডলি আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের আবেগের স্থানটা প্রপারলি তুলে ধরে। তখন উপস্থাপক বলেন, ‘সেটার কারণ হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখাটা তো আসলে অনেক আগের লেখা। এনথেম হিসেবে লেখনওনি।’

এই কথার সাথে একমত পোষণ করে নোবেল আরও যোগ করেন, ‘আর আপনারা জানবেন যে, ঢাকা ভার্সিটির অনেকে কিন্তু মিছিলও করেছিলো যে এই গানটাকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে করা হোক আরকি।’

সূত্র: যমুনা টিভি।