ইচ্ছে ডানা – নাঈমা শেখ

মেয়েটির নাম ছিলো অপরাজিতা। খুব চঞ্চল প্রকৃতির ছিলো। সবসময়ই হাসি খুশি থাকতো । কিন্তু খুব রাগী, জেদী আর ঝগড়াটে ছিলো। ওর বেস্ট ফ্রেন্ড জয়ীতাকে ঘিরেই ওর পৃথিবী ছিলো। অপরাজিতার সকল ইচ্ছে, মান অভিমান জয়ীতাকে ঘিরেই। ওর ইচ্ছে পূরণের ডানা ছিলো।

কিন্তু অপরাজিতার অনেক প্রবলেম ছিলো আর ইচ্ছে হইতো কাউকে না বলে সব ছেড়ে চলে যাবে.. হেসে খেলে দিন যাচ্ছিলো। হঠাৎ অপরাজিতার এক দাদার মাধ্যমে একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়। ছেলেটির নাম ছিলো হিমাদ্র। পরিচয় হওয়ার পর বেশ কথা হতো হিমাদ্র আর অপরাজিতার সাথে। কথা বলতেছিলো ওরা।

অপরাজিতা : জানেন আমাকে কেউ যদি ১০১ টা গোলাপ দিতো। খুব খুশি হইতাম অনেক।

হিমাদ্র : আপনার আর কি পছন্দ ??

অপরাজিতা : পছন্দের লিস্ট অনেক বড়। তবে চকলেট আর মিষ্টি অনেক প্রিয়।

হিমাদ্র : ও আচ্ছা।

এর দুইদিন পর অপরাজিতার দাদা এলো সাথে ১০১ টা গোলাপ। আর দুই বক্স চকলেট। অপরাজিতা এতো বেশি খুশি হইছিলো যা আর কখনো হয় নাই। আসলে জিনিসগুলো দিয়েছিলো হিমাদ্র। দাদা ছিলো মাধ্যম। ওদের সম্পর্ক আপনি থেকে তুমিতে। একদিন, হিমাদ্র আর অপরাজিতা এফ.বি তে চ্যাট করছে:

হিমাদ্র : কি করো?

অপরাজিতা : বাবল ফুলাই। খুব ভাল লাগে।

হিমাদ্র : তাই?? আর কি ভালো লাগে?

অপরাজিতা : টেডি বিয়ার খুব ভালো লাগে।

হিমাদ্র : তুমিতো বাচ্চাই। এইসব তোমার জন্যই।

ভালোই চলতেছিলো। ওদের দেখাও হলো। আর হিমাদ্র সাথে নিয়ে এসেছিলো গোলাপ এর তোড়া। টেডি বিয়ার আর সেই বাবল ফুলানোর যন্ত্র। অপরাজিতা অনেক বেশি খুশি ছিলো ও ভাবতো হিমাদ্র ওর আরেকটি ইচ্ছে ডানা। একদিন অপরাজিতা এফ.বি তে জয়ীতাকে ব্যাগ কিনে দিতে বলে।

সেইটা হিমাদ্র দেখে পরদিনই কিনে আনে। অপরাজিতাকে পাঠায়। খুবই ভালোবাসতো অপরাজিতাকে। এরপর থেকেই ওদের বেশ ঝগড়া হতো। আর অপরাজিতা ব্রেক আপ নিতো।  হিমাদ্র আবার রিলেশন ঠিক করতো।অপরাজিতা এটাই চাইতো হিমাদ্র ওর কাছে বারবার ফিরে আসুক। এরপর ও বেশ ঝগড়া হতো ওদের। অপরাজিতা আবার ব্রেক আপ নিলো। কিন্তু সকালে উঠে ঠিকই হিমাদ্রকে কল দিচ্ছে । কিন্তু হিমাদ্র ফোন উঠাচ্ছে না।  হিমাদ্র ফোন অফ করে রাখলো। এই দেখে অপরাজিতা হিমাদ্রর সব জিনিস ভেঙে ফেললো। অনেক কান্না করলো।

অবশেষে রাতে হিমাদ্রর ফোন আসলো। আবার রিলেশন ঠিক করলো। সামনে হিমাদ্রর এক্সাম ছিলো তাই। 1 মাসের জন্য। অপরাজিতা ও মেনে নিলো।  ভালই ছিলো। অপরাজিতার সাথে আবার হিমাদ্রর ঝগড়া। অনেক কথা হলো দুজনের। এইবার হিমাদ্র ব্রেক আপ নিলো। কারণ হিমাদ্র যে রিকেশন করছিলো অপিরাজিরার সাথে তার পিছনে কারণ ছিলো যেটা সে অপরাজিতাকে কখনোই বলে নাই। আর শেষ বার রিলেশন ঠিক করছিলো অপরাজিতার এক্সাম এর জন্য ওর জন্য না।

শুধু অপরাজিতার ভালো চায় বলে। অপরাজিতা কিচ্ছু বলতেছিলো না। শুধু শুনতেছিলো। এরপর বললো, হিমাদ্র আমাকে কখনোই আর খুজেঁ পাবে না। হারিয়ে যাবো।  অপরাজিতাকে হিমাদ্র খুজে নাই। এফ.বি আইডিও চেইক করে নাই। হঠাৎ হিমাদ্র একদিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারে অপরাজিতা দুই বছর যাবৎ নিখোঁজ। সব ছেড়ে চলে গেছে। হিমাদ্র অনেক কান্না করে। অনেক খুজেঁও পায় না। এফ.বি আইডি চেক করে দেখে একটি অপরাজিতার পোস্ট।”  আমার শেষ ইচ্ছেটাও তোমার জন্য পূরণ হইলো। তুমিই ছিলে আমার ইচ্ছে ডানা। তুমিই আমার ইচ্ছে ডানা।” চোখ বেয়ে দু ফোটা জল গরিয়ে পরে হিমাদ্রর। —- নাঈমা শেখ