[X]

বাংলাদেশে আসবেন না ইংল্যান্ডের যারা

বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার সবুজসংকেত দেওয়া নিঃসন্দেহে ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে বেশ দৃঢ় এক সিদ্ধান্ত। দেশটির সংবাদমাধ্যম এখনো এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান বা বক্তব্য জানায়নি। তবে একধরনের মিশ্র সুর তাতে পাওয়া যাচ্ছে।

ইংল্যান্ডের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফে খ্যাতনামা ক্রিকেট লেখক শিল্ড বেরি তাঁর প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছেন: ‘ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর হচ্ছে, কিন্তু তাদের কতজন খেলোয়াড় যেতে প্রস্তুত থাকবে?’

প্রশ্নটা উঠছে। কারণ ইসিবি এই সফরে নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেও খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যে কেউ চাইলে সরেও যেতে পারে। এখনো কেউ অবশ্য এই সফরে যাবেন না বলে জানাননি। ফলে শেষ পর্যন্ত কেউ সরে যাবেন কি না, এখনই বলা কঠিন। শিল্ড বেরির প্রতিবেদনেও এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই।

বেরি তাঁর প্রতিবেদনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছিল। তাদের বয়সভিত্তিক দলকেও পাঠায়নি যুব বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডও সফর বাতিল করলে এটি বাকি দেশ ও দলগুলোকে প্রভাবিত করতে পারত।

এর ফলে হয়তো বাংলাদেশে সফর করতে আস্থা পেত না বাকি দলগুলো। বেরি তাই লিখেছেন, আগের দুটি সফরের তুলনায় এবারের সফরটি শুধু বল-ব্যাট, রান-উইকেটের ব্যাপার হয়ে থাকছে না। এই সফরে খেলার ফলাফল হবে বরং সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিবিসি তাঁদের অনলাইনে সংবাদের শিরোনাম করেছে, ‘নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর হবে’। ইসিবি যে পুরো নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই এই সদ্ধিান্ত নিয়েছে, সেটির উল্লেখ আছে বিবিসির প্রতিবেদনে। তবে গত জুলাইয়ে ঢাকায় ২০ জিম্মিকে হত্যা করার বিষয়টিও উঠে এসেছে স্বাভাবিকভাবেই।

ডেইলি মেইল তাদের শিরোনামে বাংলাদেশ সফরে সবুজসংকেত পেলেও অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুককে নিয়ে অনিশ্চয়তার ব্যাপারটি এনেছে। কুক ব্যক্তিগত কারণে এই সফরে নাও আসতে পারেন। দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হতে চলেছেন। এ সময় স্ত্রী পাশে থাকবেন নাকি স্পর্শকাতর এই সফর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, এ নিয়ে কুক দোটানায় থাকবেন বলে মেইল লিখেছে।

কুকের প্রসঙ্গটি এসেছে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনেও। গার্ডিয়ান অবশ্য লিখেছে, পুরো সফর নয়, কুক সফরের শুরুর অংশটিতে না-ও থাকতে পারেন। সেই সঙ্গে গার্ডিয়ান এ-ও লিখেছে, শুধু কুক নয়, যেকোনো খেলোয়াড়কেই এই সফর থেকে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার অনুমতি দেবে ইসিবি।

তবে প্রভাবশালী এই ইংলিশ দৈনিকটি এ-ও মনে করিয়ে দিয়েছে, কেউ সরে যাওয়া মানে সেখানে আরেকজন খেলোয়াড়ের সুযোগ পাওয়া। আর সেই খেলোয়াড়টি ভালো করলে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়া খেলোয়াড়টি পরের ভারত সফরে জায়গা না-ও পেতে পারেন।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড একেবারে অস্ট্রেলিয়ার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সফর করার ব্যাপারে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমেও খবরটি গুরুত্ব পেয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ দেশটির বেশির ভাগ মিডিয়ার অনলাইনে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক খবরটি। খবরটি এসেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট পোর্টাল ‘ক্রিকেট’-এও।