যে কারণে বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছিলো অস্ট্রেলিয়া

গত বছর এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে সেই সিরিজ স্থগিত করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। এমনকি চলতি বছর অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে দল পাঠায়নি তারা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জঙ্গী হামলার ব্যাপারে সিএ-কে সতর্ক করে দেয় ছিল। সে কারণেই, বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল সংক্ষিপ্ত সিরিজে আসতে অস্বীকৃতি জানায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের সাবেক কোচ ম্যাল লয় ডেইলি মেইলরেক জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ানদের উপর হামলার ভয়েই তিনি বাংলাদেশের চাকরী ছেড়ে দেন। ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের সাবেক এই ইংলিশ ব্যাটসম্যানকে দু’বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশে নিয়ে আসে বিসিবি।

সে বছর সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরলেও আর ঢাকায় ফেরেননি। এতদিনে এসে জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের ওপর আক্রমণের আশঙ্কা বুঝেই নাকি আর বাংলাদেশে ফেরার সাহস করেননি তিনি।

বললেন, ‘যে সপ্তাহে আমি দেশে ফিরে এলাম সেই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া দলও সফর বাতিল করে দিলো। কারণ, সফরকারী দলকে নিয়ে আমাদের আয়োজিত একটা অনুষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা।’

গত এক জুলাই যে হলি আর্টিজানের হামলায় ইতালিয়ান ও আমেরিকান নাগরিকসহ ২০ জন মারা যান, সেই একই রাস্তায়ই থাকতেন ম্যাল লয়। তিনি বলেন  আমার বসের স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য ওই ইভেন্টের আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান সরকার এটা নিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিকল্পনা জানতে পারে। তবে, অস্ট্রেলিয়ানরা আসেনি বলেই সেই হামলার পরিকল্পনা সফল হয়নি।’

সেই সপ্তাহেই এক ইতালিয়ান নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ম্যাল লয় বললেন, ‘বাংলাদেশে ফিরে না আসার জন্য এই একটা কারনই যথেষ্ট ছিল।’

যদিও এবার ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কোনো হামলার আশঙ্কা করছে না। নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্টের সিরিজ। আর এক বিবৃতি দিয়ে খোদ আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসনও জানিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেটের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ।