ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য এক নজির স্থাপন করল বিসিবি

জুনে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, মাঝে টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ নেই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজে টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন সাকিব আল হাসান। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কার পর এখন পাকিস্তানও তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে একজন অধিনায়ক চায়। সেই লড়াইটা চলছে তাদের। বাংলাদেশ এখন তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক পেয়েছে। টেস্ট দলের নেতৃত্বে রয়েছে মুশফিকুর রহিম, ওয়ানডে দলে মাশরাফি বিন মর্তুজা আর টি-টোয়েন্টিতে সাকিব আল হাসান।

ক্রিকেটবিশ্বে এ মুহূর্তে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশে তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং শ্রীলঙ্কা দুই অধিনায়ক দিয়ে তিন ফরম্যাট চালিয়ে নিচ্ছে। ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া এক অধিনায়ক দিয়ে তিন ফরম্যাট চালাচ্ছে। অন্যদেশ যেখানে এক নেতৃত্বে বিশ্বাসী হয়ে উঠছে সেখানে তিন অধিনায়ক নির্বাচন করে অনন্য নজির স্থাপন করল বিসিবি।

 বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, আসলে এখনই সব কিছু চূড়ান্ত বলা সম্ভব নয়। বোর্ড সভা শেষেই আমরা চূড়ান্ত কিছু জানাতে পারব। তবে সাকিব ছাড়াও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়কত্বের দৌড়ে রয়েছেন আরো কয়েকজন।

তবে বাকিদের চেয়ে সব দিক থেকে এগিয়ে আছেন সাকিবই। পাপন নিজেই জানালেন, আমাদের ৫ জন সিনিয়র ক্রিকেটার রয়েছেন। এদেরই বিবেচনায় রাখা আছে। মুশফিক টেস্টে, মাশরাফি তো ওয়ানডে অধিনায়ক। বাকি থাকে তামিম, সাকিব আর মাহমুদউল্লাহ। তবে মাহমুদউল্লাহর যে ফর্ম তাতে সাকিবই সব দিক থেকে এগিয়ে। কারণ এই ফরম্যাটের জন্য সাকিবই অনেক চৌকস।

মাশরাফির অবসর প্রসঙ্গে পাপন নিজের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন, আসলে মাশরাফির বিকল্প কোনোভাবেই হয় না। তবে এরকম কিছু একটা আগেই ঠিক ছিল কিন্তু সিদ্ধান্তটা হুট করেই এসেছে। সাকিব এর আগেও বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। মাশরাফি থাকাকালে টি- টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাত্র ৪ ম্যাচে। ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ওই চার ম্যাচের কোনোটিতেই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও এই চারবারই মাশরাফির ইনজুরিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব।

সাকিব আল হাসান। তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার। তিনি আবার সীমিত ওভারের বাংলাদেশ দলে মাশরাফির ডেপুটি।

দুজনই আবার এই দুই সংস্করণের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশকে। আসলে তিন সংস্করণেই। মাশরাফি ইনজুরিতে পড়লে সাকিব অধিনায়ক হয়েছিলেন। এরপর মুশফিক তিন সংস্করণেই নেতৃত্ব পেলেন। আরো পরে মুশফিকের হাত থেকে ৫০ ও ২০ ওভারের ক্রিকেটের নেতৃত্ব মাশরাফির হাতে তুলে দিতেই বিশ্ব কাঁপাল টাইগাররা। ওয়ানডেতে দুর্ধষ।

মুশফিক টেস্টে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইংল্যান্ডের পর শ্রীলঙ্কায় গিয়ে শ্রীলঙ্কাকেও হারাল বাংলাদেশ। দুই সিরিজই ড্র। অসাধারণ অর্জন। সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকে মনে করেন তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে তিন অধিনায়ক থাকলে কোনো অসুবিধা নেই। অনেকে আবার বলেছেন, মুশফিক টেস্ট দল ভালো চালাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সেরা পারফর্মার আসলে সাকিবই তো। আমার মতে, টি-টোয়েন্টিতে সাকিবকে অধিনায়ক করাই ভালো।

মাশরাফি বিন মর্তুজা

২০০১ সালে ৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে ঢাকা মিরপুর স্টেডিয়ামে অভিষেক ঘটে। এরপর ৩৬ টেস্টে ৬৭ ইনিংসে ৭৯৭ রান করেছেন। বল হাতে ৫১ ইনিংসে ৭৮টি উইকেট আদায় করেছেন। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় পেয়েছিলেন তিনি।জিম্বাবুয়ের ওই সফরেই ওয়ানডেতেও অভিষিক্ত হওয়ার সুযোগ পান তিনি। এরপর একে একে ১৭২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বল হাতে ২২৫টি উইকেটসহ ব্যাট হাতে ১৫৫৬ রান তুলেছেন।

২০১০ সালের পর ৩৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ২৪টি ম্যাচেই জয় লাভ করেছেন।২০০৬ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই টি-টোয়েন্টি অঙ্গনেও প্রবেশ করেন তিনি।এ পর্যন্ত ৫৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ব্যাট হাতে ৩৭৭ রান ও বল হাতে রয়েছে ৪১টি উইকেট। নেতৃত্ব দিয়েছেন ২৩টিতে। অধিনায়ক হিসেবে ৯টি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন।

মুশফিকুর রহিম

মুশফিকুর রহিম ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেন। তিনি প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০০৬ সালে। একই বছর একই দলের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলা শুরু করেন তিনি। এখন পর্যন্ত ৫১ টেস্টে তার রান ২ হাজার ৬৫০, ১৫৫ ওয়ানডেতে ৩ হাজার ৭৬৪ রান এবং ৫৭ টি-টোয়েন্টিতে তার রান সংখ্যা ৭০৩।
মুশফিকুর রহিম ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করছেন। এই সময়ের মধ্যে ৩০টি ম্যাচের ৬টিতে জয় পায় বাংলাদেশ।

এছাড়া ১৫টিতে হার এবং ৯ ম্যাচে ড্র করতে সমর্থ হয় টাইগাররা। মুশফিক ২০১১-২০১৪ সালের মধ্যে ৩৭টি ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে ১১টিতে জয় এবং ২৪টিতে হার নিয়ে ফেরে তারা। বাকি দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। একই সময়ের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ২৩ ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়ে ৮টিতে জয় এনে দেন তিনি। এ ছাড়া ১৪টি ম্যাচে হেরে যায় টাইগাররা। বাকি একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।

সাকিব আল হাসান

সাকিব আল হাসান ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেন। সেই বছরের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে দলে আসেন তিনি। একই বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ঘটে তার। সাদা পোশাকে তিনি খেলা শুরু করেন ২০০৭ সাল থেকে। বর্তমানে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব তাকে এক নামে চেনে।

এখন পর্যন্ত ৪৯ টেস্টে তিনি ৩ হাজার ৪৭৯ রান করেন। ওয়ানডেতে তার রান সংখ্যা ৪ হাজার ৬৫০ এবং টি-টোয়েন্টিতে ১১৫৯ রান করেছেন এ তারকা। বল হাতেও তিনি বেশ সফল। সাদা পোশাকে তার উইকেট সংখ্যা ১৭৬টি, ৫০ ওভারের খেলায় ২২০টি এবং সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরের খেলায় ৬৭টি।

টেস্টে ২০০৯-১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন বিশ্বসেরা এ ক্রিকেটার। তার অধীনে ৯ ম্যাচ খেলে টাইগাররা কেবল ১টি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পায়, বাকিগুলোতে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২০০৯-১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় টাইগারদের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।