[X]

ডিএসএলআরের ছবি এখন হুয়াওয়ে ফোনে !

পেশাদারি ছবি তুলতে আলোকচিত্রীরা ডিএসএলআর ব্যবহার করেন। এখন স্মার্টফোনের যুগে ডিএসএলআর মানের ছবি তোলার সুবিধা দিতে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ে এনেছে পি১০ নামের একটি স্মার্টফোন। এতে ব্যবহৃত হয়েছে জার্মানির ক্যামেরা নির্মাতা লেইকার ক্যামেরা প্রযুক্তি।

দামের দিক থেকে অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম স্মার্টফোনগুলোর চেয়ে কিছুটা কম হওয়ায় স্মার্টফোন ক্রেতাদের কাছে সম্ভাব্য বিকল্প হয়ে উঠছে হুয়াওয়ে ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো। অ্যাপলের আইফোন ছাড়াও অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোনগুলোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে বিশ্বের তৃতীয় স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন হিসেবে সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারে স্মার্টফোন পি১০ ও পি১০ প্লাস উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে কনজ্যুমার বিজনেস গ্রুপ। স্যামসাং, এলজি, সনিসহ অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এতে বিশেষ কয়েকটি ফিচার যুক্ত করেছে হুয়াওয়ে। কয়েক দিন ব্যবহার করে পি১০-এর ফিচার পর্যালোচনা করা হলো:

পি১০পি১০গত বছর ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস পি৯ ও পি৯ প্লাসের সফলতার ধারাবাহিকতায় পি১০ মডেলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে জার্মানির লেইকার ডুয়াল লেন্সযুক্ত ক্যামেরা। এ ছাড়া প্যানটন কালার ইনস্টিটিউটের সঙ্গে অংশীদারত্বে চটকদার রঙের মিশ্রণে, বিশেষ করে হাইপার ডায়মন্ড-কাট পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে পি১০। ফোনটিকে মূলত পেশাদার ফটোগ্রাফির বিশেষ যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ফোনটিতে পেশাদার মানের পোর্ট্রেট ফিচার ও অভিনব লেইকা লেন্সের সেলফি ক্যামেরা ফোনটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। হাইব্রিড জুমের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর ছবিতে ফোকাস করার সুবিধা আছে এতে। এমবেডেড আইএসপির মাধ্যমে ফেসিয়াল ফিচার ও ডেপথ-ইন-ফিল্ডের রিয়াল টাইম ভিউ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

স্টুডিও মানের পোর্ট্রেট ছবি তোলার ক্ষেত্রে এতে বিভিন্ন ক্যামেরা মোড আছে। পি১০-এর ক্ষেত্রে ফ্রন্ট ক্যামেরা সেন্সর গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। এতে কম আলোতে ছবি তোলা সহজ।পি১০পি১০হ্যান্ডসেটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব হাইসিলিকন কিরিন ৯৬০ চিপসেট, ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ কোর্টেক্স এ৭৩ ও ১ দশমিক ৮ গিগাহার্টজ প্রসেসর।

৪ জিবি র‍্যামের এ ফোনে ৬৪ জিবি অভ্যন্তরীণ মেমোরি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে ফোনটিতে। এতে আছে ফোরজি প্রযুক্তির ডুয়াল সিম ব্যবহারের সুবিধা।

অন্যান্য স্মার্টফোনের মতো পি১০ স্মার্টফোন ধাতব কাঠামোতে তৈরি। এটিকে পাতলা স্মার্টফোন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। পি৯ স্মার্টফোনটির সঙ্গে আদতে কোনো পার্থক্য না থাকলেও নকশার দিক থেকে কোনাগুলোতে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে হুয়াওয়ে।

ফোনটির ডান দিকে একটি ভলিউম বাটনের সঙ্গে একটি পাওয়ার সুইচ আছে। ডুয়াল সিম ও মাইক্রোএসডি স্লট রয়েছে বাঁ দিকে।১০৮০ পিক্সেলের ডিসপ্লে ছাড়াও এতে একটি মাত্র স্পিকার ও ভিডিও কলিংয়ের জন্য সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা আছে।

ফোনটি ৬ দশমিক ৯৮ মিলিমিটার পুরু। ফোনটির মাপ ১৪৫ দশমিক ৩ মিমি বাই ৬৯ দশমিক ৩ মিমি বা ৬ দশমিক ৯৭ মিমি। এর ওজন ১৪৫ গ্রাম। এদিক থেকে হিসাব করলে এটি এস৮, এলজি জি৬ ও সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেডের চেয়ে হালকা-পাতলা।

হুয়াওয়ের পি১০-এর ডিসপ্লে কম শক্তিতে চলে বলে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় চলে। ৫ দশমিক ১ ইঞ্চির ডিসপ্লেযুক্ত পি১০-এ ফুল এইচডি রেজল্যুশনের স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে। ননরিমুভেবল লিথিয়াম পলিমার ৩ হাজার ২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সুবিধা আছে ফোনটিতে। এর চার্জিংয়ে ব্যবহৃত হয়েছে হুয়াওয়ের সুপার চার্জ প্রযুক্তি।

পি১০পি১০হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোনালি, কালো ও নীল রঙে আগামী ২ মে থেকে দেশের বাজারে পাওয়া যাবে হুয়াওয়ে পি১০। হ্যান্ডসেট, হেডফোন, চার্জার ও ডেটা কেব্‌লসহ নতুন এ হ্যান্ডসেটের দাম ৫৬ হাজার ৯০০ টাকা।

অসুবিধা: সামনের ক্যামেরা সেলফি ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ নেই। এখনকার যুগের বেজেলহীন স্মার্টফোনের চাহিদা থাকলেও হুয়াওয়ে সে পথে হাঁটেনি। স্যামসাং যেমন তাদের প্রিমিয়াম গ্যালাক্সি এস৮ ফোনে কার্ভড বা বাঁকানো এজ ব্যবহার করেছে হুয়াওয়ের পি১০-এর ক্ষেত্রে তা নেই। এমনকি পুরোপুরি বেজেলহীন নকশাও নেই এতে। এর ব্যাটারি খোলা যায় না।
পি১০পি১০

এক নজরে পি১০-এর উল্লেখযোগ্য ফিচার

থ্রিডি ফেসিয়াল ডিকেটশন বা ১৯২টি পয়েন্টে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি। এতে নিখুঁত সেলফি তোলা যায়।
লেইকা ডুয়াল ক্যামেরা ২.০, এফ/ ১.৮ অ্যাপারচার
হাইসিলিকন কিরিন ৯৬০ চিপসেট
২.৪ গিগাহার্জ কোর্টেক্স এ৭৩ ও ১.৮ গিগাহার্জ প্রসেসর
৪ জিবি র‍্যাম
৬৪ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি
দাম: ৫৬ হাজার ৯০০ টাকা।