প্যান্টের পকেটে মোবাইল নয় ?

মোবাইলের বিকিরণ নিয়ে ভয় থাকা সত্ত্বেও, আমাদের মধ্যে অধিকাংশ এখনো প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখতে অভ্যস্ত। কারণ এটা সহজ, সুবিধাজনক এবং এর খারাপ প্রভাবটা চোখে দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু নতুন একটি পর্যালোচনায় অকাট্য প্রমাণসহ এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

মোবাইলের বিকিরণ নিয়ে ২১টি গবেষণাপত্রের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, প্যান্টের পকেটে দীর্ঘসময় মোবাইল রাখার ফলে তা কীভাবে অটলভাবে পুরুষের শুক্রাণু কমিয়ে দেয়। গবেষণাপত্রগুলোতে অনেকের মতামতে বলা হয়েছে, বেঁচে থাকা শুক্রাণুর ডিএমএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বায়োলজিক্যাল এই সাবধানবাণী বিতর্কের মধ্যে রয়েছে, যেহেতু বিজ্ঞানীরা কাছে এটি ব্যাখ্যা করার মতো কোনো পদ্ধতি নেই যে, নন-আয়োনাইজিং বিকিরণ কীভাবে মানবদেহে প্রভাব ফেলে। তাই মোবাইল ফোন যে শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ত করে, এটা নিশ্চিতভাবে বলতে অনেক জনস্বাস্থ্য তদন্তকারী আজো দ্বিধাগ্রস্ত।

যা হোক, অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল তাদের নতুন একটি পর্যালোচনায় এ সংক্রান্ত আগে হওয়া গবেষণার পক্ষে-বিপক্ষের তথ্য, সম্ভাব্য কারণ সংগ্রহ করেছেন। এবং পর্যালোচনার ফলাফলে বলেছেন, ‘এটি যদিও এখনো একটি সক্রিয় বির্তর্কিত বিষয় হিসেবে চিহ্নিত, কিন্তু পর্যালোচনায় সম্ভাব্য বিবেচনা এটা প্রমাণ করে যে, আরএফ-ইএমআর (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি- ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন) পুরুষের শুক্রাণু ধ্বংস করে।’

‘বেশিরভাগ গবেষণাপত্রে, এই ক্ষতি শুক্রাণু তৎপরতা এবং কার্যকারিতা হারানোর পাশাপাশি আরওএস প্রজন্ম এবং ডিএনএ ক্ষতি চিহ্নিত করা হয়েছে।’

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল মোট ২৭টি গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করেছেন এবং এর মধ্যে ২১টিতে মোবাইল বিকিরণ এবং শুক্রাণু ক্ষতিগ্রস্ততার মধ্যে যোগসূত্র দেখেছেন। ১০টি গবেষণায় ১,৪৯২ মানব শুক্রাণু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে। যেখানে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন শুক্রাণুর তৎপরতা ৮ শতাংশ হ্রাস এবং শুক্রাণুর কার্যকারিতা ৯ শতাংশ হ্রাসের যোগসূত্র রয়েছে। শুক্রাণুর ঘনত্বের ওপর প্রভাবও সন্দেহজনক ছিল।

পরীক্ষাগারে পরীক্ষামূলক এসব গবেষণার ফলাফল এবং পর্যালোচনামূলক গবেষণার ফলাফল সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। গবেষক দলটির মতে, ‘তথ্যগুলো খুবই বিস্ময়কর, যা অত্যন্ত বিশেষ শুক্রাণু কক্ষের অনন্য দুর্বলতা।’

নতুন এই পর্যালোচনা সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের ইউসি বার্কলের পাবলিক হেলথ স্কুলের ড. জোয়েল মোসোউইটজ ডেইলি মেইল অনলাইনকে বলেন, ‘এই পর্যালোচনা মোবাইল ফোনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বোঝার একটি কেন্দ্রীয় ধাপ।’

২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মোবাইলের বিকিরণকে সম্ভাব্য ২বি কার্সিনোজন ক্যাটাগরিতে ফেলে। এটা প্রথম প্রধান স্বীকৃতি ছিল যে, মোবাইল ফোন আমাদের দেহের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

যা হোক, গবেষণায় শুক্রাণুর হ্রাসের এবং মোবাইলের বিকিরণের মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, সেখানে এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগের গবেষণার অভাব রয়েছে।

তথাপি, ড. জোয়েল মোসোউইটজ সতর্ক করে বলেন, নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যালোচনা স্পষ্ট প্রমাণ যে ‘মানুষের তাদের যৌনাঙ্গ কাছাকাছি মোবাইল ফোন রাখা উচিত নয়। মোবাইলের বিকিরণ শুক্রাণুর ক্ষতি করে।’

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল