যে কারনে চলচ্চিত্রকে বিদায় জানাচ্ছেন বাপ্পী

‘ভালোবাসার রং’ দিয়ে নিজের চলচ্চিত্র যাত্রাকে রঙিন করেন নায়ক বাপ্পী। সে যাত্রায় তার সহযাত্রী ছিলেন মাহী। এরপর অনেক নায়িকার সাথেই জুটি বেঁধেছেন বাপ্পী। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গড়ে উঠছে তার আলাদা ইমেজ। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা।

ক্যারিয়ারকে আরো সমৃদ্ধ করার আগেই চলচ্চিত্র ছেড়ে ‘অন্য পেশা’য় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কথা ভাবছেন এ অভিনেতা। কারণ হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন মানসম্পন্ন ছবি নির্মাণের সংখ্যা ‘অতি মাত্রায় হ্রাস পাওয়া’কে।

সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিনেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ একজনের ওপর ভরসা করে চলতে চায়। আর যারা সিনেমা প্রযোজনা করছে, তাদের কেউ কেউ ভাবে না, দর্শকদের রুচিবোধের বৃহৎ অর্থে পরিবর্তন ও বিকল্প কাউকে নিয়ে কাজ করার কথা।’

চলচ্চিত্র নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বাপ্পি চৌধুরী বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমি হতাশ। এখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা যে করতেছি না, তা কিন্তু নয়। প্ল্যান করতেছি। আমি এ বছরটা দেখব, যদি প্রোপারলি রিমুভ না হয়, তাহলে হয়ত বা আমি থাকব না এ ইন্ডাস্ট্রিতে। তখন বিজনেস করব। কারণ স্টারডম ফ্লপ করে চলে যাওয়ার চাইতে তার আগে চলে যাওয়াটাই বেটার।’

প্রথম সারির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বাপ্পি আরো বলেন, ‘তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তাদের কাছে কোয়ালিটির কেনো ভ্যালু (মূল্য) নেই। তাদের যাদের নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছে হয়, তাদের নিয়ে করছে। এর বাইরে যারা কাজ করছে, তারা তাদের পছন্দের নায়ককে নিয়ে করছে। আর যারা এফডিসি ঘরানার ছিল, তারা এখন খুব কম কাজ করছে। এ কারণে কাজের ফ্লোটা (স্বাভাবিক গতি) কমে গেছে। আমি ইন্ডাস্ট্রির পলিটিক্সটা ভালোভাবেই পেয়েছি, তার মধ্যে পড়েও গেছি।’

বাপ্পি মনে করেন ক্যারিয়ার যতটা সময় নিয়ে তৈরি করেছেন, সেটা ‘নষ্ট’ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না, যদি না তিনি ভালো মানের সিনেমা দর্শকদের দিতে না পারেন।

এ অভিনেতা বলেন ‘আমার তো একটা স্ট্রং অডিয়েন্স আছে। এত বছর ধরে যে অডিয়েন্সটা বানিয়েছি, সেটা নষ্ট করতে দুই দিনও লাগবে না। এখন আমি যদি কাজ দিতে না পারি, তাহলে তো আর তারা থাকবে না। আর স্টার মানেই দর্শকদের রুচি চেঞ্জে ভূমিকা রাখা। কাজ না থাকলে এসব বলে কিন্তু কোনো লাভও নেই।