রিমান্ডে জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলো তিন জঙ্গি

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে র‌্যাবের নিকট রিমান্ডে থাকা পাটগ্রাম উপজেলায় আটক তিন জঙ্গি সদস্য। তিনজনের নাম ফজলে রাব্বী (২৫), শাহিন আলম (৩৫), হাসান মাসুদ (৩৫)।

রংপুর র‌্যাব-১৩, লালমনিরহাট অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও লালমনিরহাট কোর্ট থানা (জিআরও) পুলিশ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আফাজ উদ্দিনের আদালতে উক্ত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে র্যাব। বিজ্ঞ আদালত পাটগ্রাম থানায় ‘অস্ত্র আইনে’ দায়ের করা মামলায় ২ দিন ও একই থানায় ‘সন্ত্রাস বিরোধ আইনে’ দায়ের করা মামলায় ৩দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

র‌্যাব তিন জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল মঙ্গলবার লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফাজ উদ্দিনের আদালতে হাজির করলে তারা ২০১২ সাল থেকে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জঙ্গিদের অর্থের উৎস, অস্ত্র সংগ্রহের বিষয় ও অন্য জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে আরও অধিকতর তদন্ত চলছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি হাবিবুর রহমান ও র্যাব-১৩ এর উপ-পরিচালক মেজর আরমিন রাব্বী জানান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর র‌্যাব-১৩ এ কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গত আগস্ট মাসে দুই দফায় অভিযান চালিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর এলাকার পোস্ট অফিসপাড়া এলাকা থেকে ৭ জঙ্গি গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দায়ের হওয়া মামলা দুইটির অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে এই মুহূর্তে গণমাধ্যমে সবকিছু বলার সময় হয়নি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন জঙ্গি সদস্যকে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত করলে তারা ১৬৪ ধারায় জঙ্গি কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে কিছু বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট এই তিন জঙ্গি সদস্যকে পাটগ্রামের পোষ্ট অফিসপাড়া এলাকার ডায়না টেইলার্স ঘর থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ১ ওয়ান স্যুাটার গান, ৫ রাউন্ড তাজা গুলি, জেহাদী লিফলেট ও সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমুলক বইসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে রংপুর র্যাব-১৩ এর একটি দল। পরে তাদের বিরুদ্ধে পাটগ্রাম থানায় অস্ত্র আইনে ও সন্ত্রাস বিরোধ আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ডে দেয় আদালত।