মাছের ঘেরে চলছে বালু ভরাটের কাজ; আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী: পায়নি কোন ক্ষতিপুরনের টাকা। এমনকি নির্দিষ্ট ফরমে ঘের হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ দুই’টি মাছের ঘের বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। কোন উপায় না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাজী কামরুল ইসলাম পটুয়াখালী যুগ্ম জেলা জজ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত বিরোধীয় ভূমিতে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিবাদী পক্ষকে স্থিতিবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। তাও মানা হচ্ছেনা এমন অভিযোগ ভূক্তোভোগীর।
ক্ষতির শিকার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের কামরুল ইসলাম জানান, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের বাড়িঘর সংলগ্ন এলাকা অধিগ্রহণ করে। আমরা জমি দিয়েছি। যার নোটিশসহ কাগজপত্র পেয়েছেন।

কিন্তু জেএল নং ৭২ এর এসএ ২৪৬ খতিয়ানের ২৩৫৮ ও ২৩৭৮ নম্বর দাগে আট শ’ ফুট দীর্ঘ এক শ’ ফুট প্রস্থ এবং ১২ফুট গভীর মাছের ঘের রয়েছে। একইভাবে এসএস ৩৪৩ খতিয়ানের ২৩৮৮ অনুরুপ আরও একটি মাছের ঘের রয়েছে। যা ক্ষতিপুরনের তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এটি তালিকাভুক্ত করতে তিনি ২০১৭ সালের ৮ জুন এবং ১০ অক্টোবর পটুয়াখালী ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কামরুল ইসলাম পটুয়াখালী জেলা যুগ্ম জজ আদালতে ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ মামলা করেন। যেখানে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা পটুয়াখালী, ইউএনও কলাপাড়া, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা পটুয়াখালী’র সার্ভেয়ার, কানুনগো ও আরপিসিএলএর প্রকল্প পরিচালককে বিবাদী করা হয়। বিজ্ঞ আদালত বিবাদীদেরকে শোকজ করেন।

কোন প্রতিকার না পেয়ে কামরুল ইসলাম এ্যাডভোকেট কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে গঠিত এ্যাডভোকেট কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান ৩০ মে-২০১৮ মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত স্থিতিবস্থার নির্দেশ দেন। কিন্তু বিবাদীপক্ষ আরপিসিএলএর নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সবকিছু উপেক্ষা করে ইতোমধ্যে ২৪৬ খতিয়ানের ২৩৫৮ ও ২৩৭৮ দাগের ঘেরটি সম্পুর্ণভাবে বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে। এছাড়া ৩৪৩ খতিয়ানের ২৩৮৮ দাগের মাছের ঘেরটির অর্ধেকটা ভরাট করে ফেলেছে। এভাবে গাজী কামরুল ইসলামের এই ঘের ভরাট করায় তিনি ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন। এনিয়ে এলাকায় চরম নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে।

আরপিসিএল প্রকল্পের বালুর লোড-আনলোডের দায়িত্বে নিয়োজিত মো. শফিক জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই মানতে হবে। তবে একটি ঘেরে আগেই বালু ঢুকে গেছে। বাকি ঘেরে বালু দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়া কারও ক্ষতি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

আরপিসিএল এর নির্বাহী পরিচালক মো. সেলিম ভুইয়া জানান, ওখানে বালু ফেলা হয়নি। আশপাশের জায়গায় ফেলা বালু বৃষ্টির পানিতে নিচু জমিতে চলে গেছে। কারও মাছের ঘের ভরাট করা হয়নি। তারপরও তিনি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলে জানান।