বিশ্বকাপই বিজয়ের ধ্যান-জ্ঞান

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের আগে ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন টাইগার ওপেনার এনামুল হক বিজয়। বিশ্বকাপের আগেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৯৫ ও ৮০ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। কিন্তু এরপরে বিশ্বকাপে যে কয়েকটি ম্যাচ খেলেছেন বিজয়, তাতে রীতিমতো হতাশ করেছিলেন টাইগার ভক্ত সমর্থকদের। আর তখন থেকেই বিজয়ের ধ্যানজ্ঞানে ছিল ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ।

‘তখন অনেক প্রত্যাশা ছিল আমার প্রতি, সেঞ্চুরি করব, একা হাতে দলকে ম্যাচ জেতাব, এমন প্রত্যাশা ছিল আমার প্রতি। যখন সেটা হয়নি, তখন ২০১৫ সালেই আমি ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে ফেলেছি।

‘২০১৫ সালে হয়নি, কিন্তু ২০১৯ সালে যাতে কোন ভাবেই হাতছাড়া না হয়। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে খেলা আমার স্বপ্ন, এবং ভালো করে খেলতে হবে। এটা আমি ২০১৫ সালে ভেবে রেখেছিলাম।,’ সাক্ষাৎকারে বলেছেন বিজয়।

কিন্তু বাস্তবতা বড়ই রুঢ। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপের স্কোয়াড থেকেই ছিটকে পড়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল এই ব্যাটসম্যান। চলতি বছরের শুরু থেকে অবশ্য একটানা খেলেছেন। কিন্তু থিতু করে নিতে পারেননি নিজের জায়গা। খেলতে পারেননি বড় রানের কোনও ইনিংসও।

এশিয়া কাপে খেলতে না পারার দুঃখ আছেই বিজয়ের। স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘এশিয়া কাপের মত বড় আসরে আমি খেলেছিলাম, ২০১৪ সালে। খুব ভালো সময় গিয়েছে তখন। এবার এশিয়া কাপে নেই, কিন্তু ঊনিশের বিশ্বকাপটা মনে প্রানে চাই খেলতে। তার জন্য অবশ্যই পারফর্ম করতে হবে, কিছু কিছু জিনিস টিউনিং করার ব্যাপার আছে।

‘বিশ্বকাপ দলে থাকার জন্য যা করার দরকার সেগুলো করেই থাকতে চাই। শুধু থাকা নয়, থেকে এতদিন পর্যন্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশে যা করতে পারে নি, সর্বোচ্চ রেজাল্টটা করতে পারেনি, ওর মধ্যে একজন সদস্য হিসেবে থাকতে চাই। বড় অর্জনটা করতে চাই।’

বাংলাদেশ শেষ যে আঁটটি ওয়ানডেতে খেলেছে, তার ৭ টিতেই খেলেছেন বিজয়। খুব সহসাই জাতীয় দলে জায়গা মিলবে না তার। এশিয়া কাপে তো মেলেনি, এরপরে জিম্বাবুয়ে সিরিজেও ডাক না পেতে পারেন তিনি। আপাতত ঘরোয়া ম্যাচ ছাড়া কিছুই নেই বিজয়ের সামনে। এনসিএলের কিছু ম্যাচ আছে, এরপরে বিপিএল আছে; আর বিপিএলের পরে প্রিমিয়ার লীগ। ফেরার মিশনে ঘরোয়া লিগকেই বেঁছে নিয়েছেন বিজয়।

‘এর মধ্যে অনেক ম্যাচ আছে, ৩০-৪০টা ম্যাচ আছে। এর মধ্যে ১৫-১৬টা বড় ইনিংস খেলতে পারলে অবশ্যই আমাকে বিবেচনায় রাখা হবে। এই জন্য আমার কাছে মনে হয় পারফর্মেন্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পারফর্মেন্সের ওপরে কিছু নেই। হয়তো জাতীয় দলে হয়ে হয় নি, কিন্তু সুযোগ আছে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার।’

যে কোন মূল্যেই জাতীয় দলে ফিরতে চান বিজয়, খেলতে চান আসন্ন বিশ্বকাপ। এজন্য ইংল্যান্ডের কন্ডিশন কেমন হবে, সেটা ভেবেই নিজেকে প্রস্তুত করে চলেছেন বিজয়। ‘আমার ভাবনা এখন ২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে। আমাদের এখন ইংলিশ কোচ আছেন, তাঁর সাথেও কথা হয়েছে সেখানকার কন্ডিশন নিয়ে। সব ব্যাপারে আমি অবশ্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি অবশ্যই সম্পূর্ণ প্রস্তুত না। আমার প্রস্তুতির অনেক জায়গা আছে।’