রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানোর আশা সাঈদ খোকনের

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে গঠিত কমিটির সফলতা আগামী ২ বছরের মধ্যে আসবে বলে আশা করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহম্মাদ সাঈদ খোকন।

সোমবার নগর ভবণে এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে গঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রজ্ঞাপন রোববার জারি করে মন্ত্রণালয়। ১০ সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে এক দিনে সাড়ে ৪ হাজার গণপরিবহন নামানো সম্ভব নয়। এক কোম্পানির পক্ষে এটা কেনাও সম্ভব নয়। এ জন্য কিছুটা সময় দরকার হবে।

রাজধানীর সড়ক নিরাপদ করতে, যানজট নিরসনে এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নাগরিক সচেতনতাকে দেখছেন সাঈদ খোকন।

রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ প্রাইভেট কার। এ বিষয়ে কী উদ্যোগ নেবে এই কমিটি? এমন একাধিক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, প্রাইভেট গাড়ির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো দিক নির্দেশনা নেই। তবে বিআরটিএ এই কমিটিতে রয়েছে, আমরা বৈঠকে বসলে আলোচনা করবো। প্রাইভেট গাড়ির বিষয়ে আমরা ব্যাক্তিগতভাবে আলোচনা করবো।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকরা সচেতন হলে অনেক সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে। তারা যদি নিয়ম মেনে গাড়ি পার্কিং ও ওঠানামা করেন তাহলে যানজট অনেকটা কমে আসবে।

এদিকে রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জারি করে।

কমিটিতে ডিএনসিসির প্যানেল মেয়রকে যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং বিআরটিএ, বিআরটিসি ও রাজউক চেয়ারম্যানসহ ডিএমপি কমিশনার, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে কমিটির কয়েকটি কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো-

১. ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তনের বিষয়ে ডিএনসিসির সাবেক মেয়র মরহুম আনিসুল হকের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় করা।

২. সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তন করা।

৩. এজন্য রোড ম্যাপসহ সময়াবদ্ধ কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

৪. বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন করা।

৫. কমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে নিয়মিতভাবে অবহিত করা।

এছাড়া প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি তাদের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনে যে কাউকে কো-অপ্ট করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্য সচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান, ডিএসসিসির সিইও খান মোহাম্মদ বিল্লালসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ২৪