ভূমিকম্প হলে করণীয়

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) ১০ টা ৫৪ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রাজধানী ছাড়া দেশের চট্রগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জে এবং ফেনীতে একযোগে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

তবে এ ভূমিকম্পে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আতংক ছড়িয়েছে ব্যাপক। প্রকৃতপক্ষে ভূমিকম্পের সময় আমাদের করণীয় কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস দেয়ার যন্ত্র নেই, তাই নিজেদের সতর্কতা ও সচেতনতাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।

আসুন জেনে নিই ভূমিকম্পের সময় আমাদের করণীয় কী?

* ভূমিকম্প শুরু হলে আতংকিত হবেন না। ঘরের মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার চেষ্টা করুন।
* বিম, কলাম ও পিলার ঘেঁষে আশ্রয় নিন।
* আলমারি, খাট বা টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকলে ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা টেবিলের নিচে অবস্থান করুন।
* অফিস-কারখানা-হাসপাতাল, মার্কেট প্রভৃতি স্থানে থাকলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি করবেন না। দু’হাতে মাথা ঢেকে বসে পড়ুন।
* একবার ভূকম্পন হয়ে গেলে কিছুক্ষণের ভেতরে আরও একবার হওয়ার আশংকা থাকে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন।
* ওপরের তলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কম্পন থামলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করুন।
* চুলা জ্বালানো থাকলে তা বন্ধ করে দিন।
* বহুতল ভবনের লিফট থাকলে এ সময় ব্যবহার করবেন না।
* জানালার পাশে দাঁড়ানো যাবে না। দেয়ালে চাপা পড়লে কোনোরকম নড়াচড়া করবেন না। যথাসম্ভব নাক-মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন। যেন শ্বাসনালিতে ধুলাবালি প্রবেশ না করে।
* ভূকম্পনের সময় যানবাহনে চলাচল অবস্থায় থাকলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে খোলা জায়গায় গাড়ির ভেতর অবস্থান করতে হবে।
পূর্ব প্রস্তুতি : খাবার পানি ও শুকনো খাবার সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
* ব্যাটারিচালিত (রেডিও, টর্চলাইট ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বাড়িতে মজুদ রাখুন।
* বাসাবাড়ির শেলফ ও আলমারিতে বড় এবং ভারি মালামাল নিচের দিকে রাখা ভালো।
* ত্রুটিমুক্ত বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং এবং গ্যাসের লাইন মেরামত করতে হবে।
* বাড়ির ছাদ বা দেয়ালে ফাটল থাকলে তা চিহ্নিত করে মেরামত করতে হবে।
* বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সব নিয়মকানুন মেনে চলুন। বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করুন।
* ভবনের উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী শক্ত ভিম দিতে হবে।
* বহুতল ভবনের প্রত্যেকটি তলা একই রকম রাখতে হবে।
* জলাশয় ভরাট করেই বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। অবশ্যই মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে।