সফল ব্যাটসম্যান, ব্যর্থ অধিনায়ক

বিপুল প্রত্যাশা জাগিয়ে ইংল্যান্ড সফর শুরু করেছিল ভারত। টি-২০ সিরিজ জেতার পর প্রত্যাশা আরো বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু একদিনের সিরিজে লিড নিয়েও সিরিজ জিততে ব্যর্থ হয়েছিল ‘টিম ইন্ডিয়া’। টেস্ট সিরিজেও ফল খুবই হতাশাজনক। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে পর পর দুটি ম্যাচ হেরে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও তৃতীয় টেস্ট জিতে দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছিল ভারত।

কিন্তু বাকি দুটি টেস্টে হেরে আবারো ব্যর্থতার কানাগলিতে তলিয়ে গেছে কোহলি বাহিনী। টেস্ট সিরিজে ভারত হেরেছে ১-৪ ব্যবধানে। অধিনায়ক হিসাবে বিরাট কোহলি কিন্তু চূড়ান্ত ব্যর্থ। তবে ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি কিন্তু ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরের কলঙ্কিত অধ্যায় মুছে ফেলতে সফল। তিনি পাঁচটি টেস্টে করেছেন ৫৯৩ রান। তার মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ-সেঞ্চুরিও রয়েছে। ইংল্যান্ডের তারকা পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের সাথে বিরাটই কিন্তু শেষ হাসি হেসেছেন।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরাট কোহলির মতো বাকি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যদি খেলতে পারতেন, তাহলে এতোটা খারাপ ফল হতো না। বিরাটের পরেই সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীর তালিকায় আছেন লোকেশ রাহুল। তিনি ২৯৯ রান করেছেন। যার মধ্যে পঞ্চম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৯ রানের ইনিংস রয়েছে। চেতেশ্বর পূজারা ২৭৮ রান করেছেন। তবে বিরাট কোহলির থেকে তারা অনেকটাই পিছনে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারতের ব্যর্থতার বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা হলো-

১) সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর বলেছেন, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামার আগে কমপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। কিন্তু ভারতীয় দল এসেক্সের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে। তাও কোচ রবি শাস্ত্রীর নির্দেশে ম্যাচের দিন কমিয়ে তিন দিন করে দেয়া হয়।

২) টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসাবে অজিঙ্কা রাহানে কিংবা চেতেশ্বর পূজারা কিন্তু প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স মেলে ধরতে পারেননি। ওপেনাররূপে চূড়ান্ত ব্যর্থ ধাওয়ান ও মুরলি বিজয়।

৩) অলরাউন্ডার হিসাবে হার্দিক পান্ডিয়ার ওপর ভরসা রেখেছিলেন কোহলি। তার মনে হয়েছিল, সীমিত ওভারের মতো লাল বলের ক্রিকেটেও হার্দিক সফল হবেন। কিন্তু ব্যাট হাতে ১৬৪ রান করেচিলেন হার্দিক। ট্রেন্ট ব্রিজে পাঁচ উইকেট ছাড়া বোলার হার্দিকের পক্ষে বলার মতো কিছু নেই।

৪) শিখর ধাওয়ানকে নিয়মিত খেলিয়ে যাওয়া বড় ভুল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের। মুরলি বিজয়ের মতো অনেকই আগেই ধাওয়ানকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া উচিত ছিল। তার পরিবর্তে তরুণ পৃথ্বী সাউকে পঞ্চম টেস্টে খেলানো যেত।

৫) এটা ঠিক, কোহলি পাঁচটি ম্যাচেই টসে হেরেছিলেন। তবে সঠিক কম্বিনেশন চয়ন এবং পিচের চরিত্র বোঝার ক্ষেত্রে কোহলি কিন্তু মুন্সিয়ানার পরিচয় দিতে পারেননি। যেমন- এজবাস্টন টেস্টে তিনি দ্বিতীয় স্পিনার না খেলিয়ে বড় ভুল করেছিলেন। আবার লর্ডস টেস্টে দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নামার কোনও প্রয়োজনীয়তা ছিল না।

৬) ভারতীয় পেসারদের পারফরম্যান্স সত্যিই নজরকাড়া। অনেকেই বলছেন, এটাই নাকি দেশের সর্বকালের সেরা পেস আক্রমণ। কিন্তু রবিচন্দ্রন অশ্বিন নিজের সেরা ফর্মে না থাকায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে পেসারদের লড়াই বৃথা গিয়েছে। আরও আগেই রবীন্দ্র জাদেজাকে খেলানো উচিত ছিল।

৭) টেস্ট দলের অধিনায়ক হওয়ার পর বিরাট কোহলি শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশের বিরুদ্ধে সাফল্য পেয়েছেন। তবে ইংল্যান্ডের মাটিতে তার নেতৃত্ব নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষ করে রিভিউ নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বড় তাড়াহুড়ো করেছেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রে উইকেটরক্ষকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ধোনির মতো বিচক্ষণতা দেখাতে পারেননি দীনেশ কার্তিক কিংবা তরুণ কিপার ঋষভ পন্থ। অনেক বেশি তারা অধিনায়ক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। ফলে ভারত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রিভিউ নষ্ট করেছে।