একটু পরেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে শনিবার পর্দা উঠছে এশিয়া কাপের। আজ দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ইতিহাস বলে, ভারতের পরই পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে গত তিনটি আসরের দুটিতে রানার্সআপ হয়ে টাইগাররাও ফেভারিট তালিকায় আছে।

আইসিসি তাদের এশিয়া কাপের প্রিভিউয়ে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, গ্রুপ ‘বি’তে থাকা তিনটি দলের মধ্যে বাংলাদেশের র‌্যাংকিং সবার ওপরে সাত নম্বরে। গ্রুপের বাকি দু’দল শ্রীলঙ্কা আছে আট নম্বরে আর আফগানিস্তান আছে দশে। তা ছাড়া সর্বশেষ নিদাহাস ট্রফিতেও লংকার মাটিতে গিয়ে তাদের হারিয়েছে টাইগাররা। যদিও সেটা ছিল টি২০ ফরম্যাটের। কুড়ি-কুড়িই হোক কিংবা পঞ্চাশ-পঞ্চাশ, প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বশেষ জয়ের স্মৃতি নিশ্চয় তাতাবে সাকিবদের।

তবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টাইগারদের রেকর্ড খুব সমৃদ্ধ নয়। এ পর্যন্ত ওয়ানডেতে দু’দলের ৪৪ বারের দেখায় মাত্র ছয়বার জিতেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে দু’দলের ১২ ম্যাচেও টাইগারদের জয় মাত্র একটিতে। তা ছাড়া এশিয়ার এই সর্ববৃহৎ আসরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ৩৭টি ওয়ানডে খেলেছে, তাতে জয় এসেছে মাত্র চারটিতে।

ভারত, শ্রীলঙ্কা, হংকং আর আরব আমিরাতকে একটি করে ম্যাচ হারাতে পেরেছিল টাইগাররা। মজার ব্যাপার হলো, হংকং ও আরব আমিরাত বাদে বাকি দুটি জয় এসেছিল কিন্তু নিজেদের মাটিতে। তাই এবার চ্যালেঞ্জ ঘরের বাইরে গিয়ে নিজেদের সেরাটা প্রদর্শন করার। তা ছাড়া বাংলাদেশ হলো এশিয়া কাপের বর্তমান রানার্সআপ দল। এই মর্যাদা নিয়েই মাঠে নামছে তারা। এবারের আসরে গ্রুপিংটাও করা হয়েছে সেভাবেই।

শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানকে হারাতে পারলেই পরের রাউন্ডে যেতে পারবে টাইগাররা। একটি জয়ও সেই সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখতে পারবে। তবে ২০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান ম্যাচের জন্য অপেক্ষা না করে আজকের ম্যাচটিকেই পাখির চোখ ধরে নিয়েছেন মাশরাফি। সাম্প্রতিক সময়ে লংকার সঙ্গে একটা স্নায়ুর লড়াই ধরা পড়ে টাইগারদের মধ্যে। যদিও মুখে তা স্বীকার করেন না দলের কেউ। তবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে লংকার কোচ হওয়ার পর চাপা একটা জেদ কাজ করে সবার মধ্যে। সেইসঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে আফগানিস্তান। রশিদ খানদের আফগানিস্তানও ইদানীং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তবে আপাতত আজকের ম্যাচটি নিয়েই ভাবছেন মাশরাফি।

লংকান দলেও এলোমেলো একটি ব্যাপার রয়েছে। চোটের কারণে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন দিনেশ চান্দিমাল। কাল খবর এসেছে, তাদের নিয়মিত ওপেনার দানুশকা গুনাতিলাকারও পিঠে চোট। তার বদলে শিহান জয়সুরিয়াকে নেওয়া হয়েছে। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা তাই আজকের ম্যাচে থাকতে পারছেন না আকিলা ধনাঞ্জয়াও। অর্থাৎ, লংকানদের নিয়মিত একাদশের তিন খেলোয়াড় বাইরে। তবে চমক আছে তাদের পেস অ্যাটাকে। বিশ্বকাপ সামনে বলে এই টুর্নামেন্টে পেসার লাসিথ মালিঙ্গাকে দলে রেখেছেন কোচ হাথুরু। যদিও গেল বিপিএলেই মালিঙ্গা-জুজু কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। তার পরও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, কুশল পেরেরা, কুশল মেন্ডিস, উপল থারাঙ্গা, তিসারা পেরেরা মিলে বেশ মজবুত ব্যাটিং অর্ডার আছে লংকানদের। তাদের সঙ্গে মাশরাফি, মুস্তাফিজ, সাকিবদের লড়াইটা বেশ জমবে বলে আশা করা যেতে পারে।

আজ টাইগারদের বোলিং আক্রমণে মাশরাফির সঙ্গে থাকবেন মুস্তাফিজ ও রুবেল। স্পিনে সাকিব ছাড়াও অপশন আছে মেহেদী মিরাজ ও নাজমুল অপুর। সব মিলিয়ে লংকার বিপক্ষে আজ রণকৌশলের সব কিছুই গোছানো রয়েছে। শঙ্কার জায়গাটি কেবল একটি জায়গায়- তামিম আর সাকিবের আঙুলের ব্যথা। যদিও কোচ স্টিভ রোডস জানিয়েই রেখেছেন, সাকিব ৬০ ভাগ ফিট থাকলেও চলবে।