তামিমকে শ্রদ্ধা জানালেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক ম্যাথিউস

বাঁ হাতের কবজিতে চোটের কারণে নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুতেই ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু ইনিংসের শেষ দিকে দলের প্রয়োজনে কেবল ডান হাতকে শক্তি বানিয়েই নেমে পড়লেন বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। তিনি নামলেন বলেই শেষ দিকে মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে সমর্থ হয় টাইগার দল।

আর খেলা শেষে তামিমকে হাঁটু গেলে এভাবেই শ্রদ্ধা জানান শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক ম্যাথিউস। তামিম মাঠে নামার সময় দলের স্কোর ছিল ২২৯। সতীর্থকে এমন সাহস নিয়ে নামতে দেখে সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকও যেন হয়ে ওঠেন আরও দুর্দমনীয়। তামিম একপাশ আগলে রাখলেন, মুশফিক ওপাশে তুললেন ঝড়। দলের স্কোরকার্ডে যুক্ত হয় আরও মূল্যবান ৩২টি রান। বাংলাদেশের ইনিংস গিয়ে দাঁড়ায় ২৬১-তে।

অবশেষে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেল বাংলাদেশ। ১৪৪ রান করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

উল্লেখ্য, তামিম ইনজুরি হয়ে মাঠের বাহিরে চলে যান। পরে আবারো মাঠে নামেন তামিম। ইনজুরির পরও এক হাতে ব্যাট করে বিশ্বকে তাক লাগালেন তামিম। একের পর এক আউটের মিছিলে রানের চাকা ঘুরতে পারলো না। মিঠুন আর মুশফিকের রানে বাংলাদেশের এগিয়ে যায়।

এদিন শ্রীলঙ্কা দলে ক্যাচ মিসের মহড়ায় ২০ রানের মধ্যেই জীবন পান মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুন। মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটের ১৩ ওভারে দলীয় ৫০ রান পর করে বাংলাদেশ। ৫২ বলে ফিফটি তুলে নেন মোহাম্মদ মিঠুন।

২০ ওভারের মধ্যেই ১০০ রান পূরণ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। অন্য প্রান্ত থেকে ৬৫ বলে ফিফটি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। এই দুজনের ১৩২ রানের পার্টনারশিপ ভাঙেন মালিঙ্গা। আর এরপর এই বিপদে পড়ে বাংলাদেশে দল। ৬৩ রান করে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মোহাম্মদ মিঠুন।

বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, এবং মোসাদ্দেক হোসেন। দলীয় ১৩৬ রানের মাথায় এক রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। লাথিস মালিঙ্গা চতুর্থ শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ১ রান করে আউট হয় মোসাদ্দেক হোসেন। পরে ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিম কিছুটা সঙ্গ দিয়ে প্যাভেলিয়নের প্রধান মেহেদি হাসান মিরাজ।

এদিন মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে পারেননি মাশরাফি বিন মর্তুজা ও। ১৯৫ রানের মাথায় ১১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। এটিন যেন একাই লড়ে গেছেন মুশফিকুর রহিম। এশিয়া কাপের নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ১২৩ বলে। ১০ জানে মুস্তাফিজুর রহমান আউট হলে ইনজুরি নিয়েই মাঠে নামেন তামিম ইকবাল। অন্য প্রান্ত থেকে তখনই ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম।এদিকে, দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেই চমক দেখিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা।