বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়

২২৯ রানে সাজঘরে ফেরেন মোস্তাফিজ। এতে বাংলাদেশের উইকেটের পতন ঘটে ৯। ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানেই টাইগারদের ইনিংস শেষ। কারণ, রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তামিম। কিন্তু না! সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাঠে নামেন ড্যাশিং ওপেনার। বিষয়টি অবাক করেছে মুশফিকুর রহিমকে। বললেন, স্লিং থেকে হাত খুলে, গ্লাস কেটে সেট করে হাতে লাগিয়ে মাঠে নামবে তামিম। এটা কল্পনাও করতে পারিনি।

যে উদ্দেশ্যে মাঠে নামা তামিমের। এর ষোল আনায় পূরণ হয়েছে। একপ্রান্তে শুধু দাঁড়িয়ে থেকেছেন বাঁহাতি ওপেনার। অপর প্রান্তে স্টিম রোলার চালিয়েছেন মুশফিক। শেষদিকে কব্জিতে চোট পাওয়া তামিমকে নিয়েই মহামূল্যবান ৩২ রান তুলেছেন তিনি। সবক’টি রানও আবার মিস্টার ডিপেন্ডেবলের। ১৫০ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১৪৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে থিসারা পেরেরার শিকার হয়ে ফেরেন মুশফিক। ২ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম। তাতে ২৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় বাংলাদেশ।

জবাবে ১২৪ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। দুর্দান্ত বোলিং করেন মাশরাফি, মোস্তাফিজ, মিরাজরা। লংকান কোনো ব্যাটসম্যানকেই দলের হাল ধরতে দেননি তারা। এতে ১৩৭ রানের বিশাল জয় পায় টাইগাররা। বিদেশের মাটিতে এটি তাদের সবচেয়ে বড় জয়।

বোলার ভালো করলেও বুক চিতিয়ে লড়াকু সেঞ্চুরি তুলে নেয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে উঠেছে মুশফিকের। প্রথানুযায়ী সেই পুরস্কার নিতে এসে কথা বলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তার কণ্ঠে ঝরে তামিম বন্দনা, তামিম মাঠে নামায় উজ্জীবিত হয়েছিলাম। সাহস আরও বেড়ে গিয়েছিল। সংকল্প করেছিলাম তার এবং দেশের জন্য কিছু করে দেখাব।

১৪৪ রানের ইনিংসটি ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মুশফিকের সেরা। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল ১১৭। ২০১৪ সালে ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে এ দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলেন তিনি। এ নিয়েও কথা বলেন মুশি, সম্ভবত এটাই আমার ক্যারিয়ারসেরা ব্যাটিং। সৌভাগ্য বলতে হবে মিথুন-তামিমের সমর্থন পেয়েছি। থিতু হওয়ার ব্যাটে বল এসেছে।