ম্যাচ হারের কারন হিসেবে যা বললেন লঙ্কান ক্যাপ্টেন

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের দেয়া ২৬২ রানের লক্ষে খেলতে নেমে ১২৪ রানেই গুটিয়ে গেছে লঙ্কানরা। এই জয়ে সুপার ফোরে এক পা দিয়ে রেখেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ম্যাচ শেষে লঙ্কান ক্যাপ্টেন ম্যাথিউস বলেনঃ পুরো দলের কাছে এটা খুব খারাপ পারফর্ম ছিল। আমরা অনেক গুলো ক্যাচ ছেড়ে ম্যাচটা হেরেছি। মুশফিক দুর্দান্ত ব্যাট করেছে, এবং আমরা অনেক গুলো খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ব্যাটিং এর জন্য এটা ভাল উইকেট ছিল কিন্তু আমরা পারি নি। সামনে ভাল খেলব আশা করি।

এশিয়া কাপের ইতিহাসে এটিই কোনো দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের নজির। বাংলাদেশের দেয়া মাঝারি লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। লঙ্কানদের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৯ রান করেছেন দিলরুয়ান পেরেরা। তাছাড়া ২৭ রান করেছেন ওপেনার উপুল থারাঙ্গা, ২০ রান এসেছে সুরাঙ্গা লাকমলের ব্যাট থেকে। এরপর আর কেউ দাঁড়াতে না পারলে অল আউট হয়ে যায় লঙ্কানরা। বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফি, মুস্তাফিজ ও মেহেদী ২ টি করে উইকেট নিয়েছেন।

১ টি করে উইকেট গেছে সাকিব, রুবেল ও মোসাদ্দেকের ঝুলিতে। এর আগে মুশফিকুর রহী্মের ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংসে লড়াকু পুজি পায় বাংলাদেশ। ইনজুরি নিয়েও ব্যাটিংয়ে নেমে দলের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ২ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। মুশফিক ১১ টি চার ও ৪ টি বিশাল ছক্কায় এই ইনিংস সাজিয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে মূলত একাই লড়াই করেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ম্যাচের শুরুতে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে টস ভাগ্যে জয়ী হয়ে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

অধিয়ানকের সিদ্ধান্তে ব্যাট করতে নেমে দলকে ভাল সূচনা এনে দিতে পারেন নি ওপেনার লিটন দাস। ইনিংসের পঞ্চম বলে কুশল মেন্ডিসের হাতে লাসিথ মালিঙ্গার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ০ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। এরপরের বলেই আবারও আঘাত হানেন মালিঙ্গা। দুর্দান্ত ইনসুইং ইয়র্কারে সাকিব আল হাসানের স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেন এই ডানহাতি পেসার। সাকিবও বিদায় নেন ০ রানে।

দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পরা বাংলাদেশের ধাক্কা সামাল দেয়ার দেয়ার আগেই সুরাঙ্গা লাকমালের বাউন্সারে পুল শট খেলতে গিয়ে হাতে আঘাত পান ওপেনার তামিম ইকবাল। পরবর্তীতে মাঠ ছেড়ে যান এই ওপেনার। এরপর মুশফিককে সঙ্গ দিতে নামেন মিথুন আলি। দুজন মিলে দলের ইনিংস মেরামতের কাজটা ভালোই করেন। দুই উইকেট রক্ষক মিলে পঞ্চম উইকেট জুটিতে গড়েন ১৩১ রানের। দুজনি তুলে নেন ফিফটি।

কিন্তু ২৫ ওভারের পর আবারও বোলিংয়ে আসা লাসিথ মালিঙ্গার বলে উইকেট রক্ষক কুশল পেরেরার হাতে ৬৪ রানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিথুন। মিথুনের বিদায়ের পর আমিলা আপন্সোকে উইকেট বিলিয়ে দেন রিয়াদ। রিয়াদের পর মোসাদ্দেককে নিজের চতুর্থ শিকারে পরিণত করেন মালিঙ্গা। ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে পারেননি মাশরাফি এবং মিরাজও।

তবে বাকি ব্যাটসম্যানরা আসা যাওয়ার মাঝে থাকলেও উইকেটে থিতু হয়ে খেলছেন মুশফিকুর রহিম। লড়াকু ইনিংস খেলে এশিয়া কাপে নিজের দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এরপর মুস্তাফিজ রান আউট হয়ে ফিরলে আবারো ব্যাটিংয়ে নামেন তামিম। তামিমকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে থাকেন মুশফিক। এই দুইজনের জুটিতেই লড়াইয়ের পুজি পায় বাংলাদেশ। মুশফিক শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে থিসারা পেরেরার শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশঃ তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদুল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিথুন, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কাঃ উপুল থারাঙ্গা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, কুশাল পেরেরা, কুশাল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (অধিনায়ক), থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, দিলরুয়ান পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমল, লাসিথ মালিঙ্গা, আমিলা আপন্সো।