তামিমের কাছে ছুটে এসেছিলেন হাথুরুসিংহেও

ছবি : এএফপি

গতকাল দুবাইতে ইতিহাস সৃষ্টি করল মাশরাফি-সাকিবদের বাংলাদেশ। আর এই ম্যাচকে মানুষ মনে রাখবে মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে এবং তামিমের আত্মনিবেদনে। মুশফিকুর রহিমের ১৪৪ রানের উপর ভর করে ২৬১ রান তুলা বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১৩৭ রানের ব্যবধানে।

ম্যাচসেরা ইনিংস খেলা মুশফিকুর রহিম পুরষ্কার নিতে গিয়ে প্রশংসার বৃষ্টিতে ভাসিয়েছেন সতীর্থ তামিম ইকবালকে। তিনি বলেন, “তামিমের মাঠে আসাটা আমাকে উৎসাহিত করেছে। ও যখন মাঠে আসে তখন আমার মনে হয়েছিল এখনই সময় দেশকে কিছু দেয়ার। আমি সেটার চেষ্টা করেছি।”

মুশফিক আরো বলেন ,’ ‘আমি মনে করি এটি ব্যাটিং উইকেট। তবে শুরুতেই আমরা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। তবে মিথুনকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। সে আমার উপর থেকে চাপ কমিয়ে দিয়েছে। যা আমার কাজটা সহজ করে দিয়েছিল। তবে তামিমের ব্যাট করতে আসা আমার কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। সত্যিই এটি অনেক প্রেরণার।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট হাতে গোনা যে কয়জন কোচের অবদান স্মরণ করবে, চন্দিকা হাথুরুসিংহে তাদের অন্যতম। লঙ্কান এই কোচের অধীনে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা অকৃতজ্ঞ হওয়ায় হাথুরুর বিদায়টা সুখের হয়নি। এতে হাথুরুর দায়ও কম নয়। তার নাটকীয়তা সত্যিই বিরক্তিকর ছিল। নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার কোচ হওয়ার পর ‘হাথুরু বনাম বাংলাদেশ’ লড়াইটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয়ে যায়

সেই হাথুরুসিংহের অধীনেই গতকাল শনিবার এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ক্ষণে ক্ষণে বদলাল ম্যাচের রং। শেষ মুহূর্তে যখন তামিম ইকবাল ভাঙা হাত নিয়ে আবারও ব্যাটিংয়ে নামলেন, ম্যাচ চলে এল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। পুরো ম্যাচে আর মাথা তুলত পারেনি লঙ্কা। এটাই ক্রিকেটের ‘মাইন্ড গেম’। তামিম ইকবাল এবং অধিনায়ক মাশরাফি এই খেলা এমন একজনের বিরুদ্ধেই খেললেন, সেই চন্দিকা হাথুরুসিংহে মাইন্ড গেম খেলতে সবচেয়ে পটু।

তামিম মাঠে নামায় মানসিকভাবে যে ধাক্কাটা খেয়েছিল লঙ্কান ক্রিকেটাররা, সেটা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ম্যাচ শেষে অভিনন্দনের বন্যায় ভাসতে থাকা তামিমকে অভিনন্দন জানাতে ভুলেননি হাথুরুসিংহে। প্রিয় শিষ্যের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচকে। হাথুরু এর আগেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময় তামিম অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। সেই ওয়ানডে সিরিজে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম।

এদিকে, বাঁ হাতের কবজিতে চোটের কারণে নিজেদের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুতেই ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু ইনিংসের শেষ দিকে দলের প্রয়োজনে কেবল ডান হাতকে শক্তি বানিয়েই নেমে পড়লেন বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকবাল।

তিনি নামলেন বলেই শেষ দিকে মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে সমর্থ হয় টাইগার দল।আর খেলা শেষে তামিমকে হাঁটু গেড়ে এভাবেই শ্রদ্ধা জানান শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক ম্যাথিউস।তামিম মাঠে নামার সময় দলের স্কোর ছিল ২২৯।

সতীর্থকে এমন সাহস নিয়ে নামতে দেখে সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকও যেন হয়ে ওঠেন আরও দুর্দমনীয়। তামিম একপাশ আগলে রাখলেন, মুশফিক ওপাশে তুললেন ঝড়। দলের স্কোরকার্ডে যুক্ত হয় আরও মূল্যবান ৩২টি রান। বাংলাদেশের ইনিংস গিয়ে দাঁড়ায় ২৬১-তে।