মাশরাফী ভাই আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন : তামিম ইকবাল

টুনামেন্ট শুরুতেই শেষ হয়ে গেল তামিম ইকবালের এশিয়া কাপ। ঈদের ছুটিতে যখন সবাই নিজ দেশের বাড়িতে ঠিক তখনই ঢাকায় কোচ সালাউদ্দিনের কাছে ব্যাটিং অনুশীলন সেরে নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তামিমকে নিয়ে অনেক আশা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তদের। সম্প্রতি সময় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে থাকায় তামিম ইকবাল অনেক কষ্ট করেছেন এশিয়া কাপকে সামনে রেখে।

অনেক বড় বড় গণমাধ্যম ধারণা করেছিল এবার এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই ওপেনার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে তামিম ইকবালের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ঢাকায় অনুশীলনের সময় হাতে চোট পান তামিম ইকবাল। ব্যথা নিয়েই এশিয়া কাপ খেলতে দুবাই পাড়ি দেন বিশ্বের সেরা এই ব্যাটসম্যান।

গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে কব্জির ইনজুরির কারণে মাঠ থেকে সোজা হাসপাতালে। এবার সেখান থেকে খবর এলো, এশিয়া কাপই আর খেলতে পারছেন না বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান, ওপেনার তামিম ইকবাল। তার কব্জিতে ছিড় ধরা পড়েছে। যে কারণে, তার এশিয়া কাপের বাকি ম্যাচগুলো খেলা আর সম্ভব হবে না। ক্রিকইনফো, ক্রিকবাজ জানিয়েছে এ সংবাদ।

সুরঙ্গা লাকমালের ওভারের শেষ বলটি কব্জি মোচড়ে খেলতে যান তামিম। তাতেই আঘাতটা পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তামিমকে নিয়ে যাওয়ায় মাঠের বাইরে এবং সেখান থেকে হাসপাতালে। স্টেডিয়ামের কাছাকাছি স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে দ্রুত স্ক্যান করে দেখা হয় তামিমের কব্জির কী অবস্থা। সেখানেই দেখা গেলো, ভালো ছিড় ধরা পড়েছে। অবস্থা এতটাই নাজুক যে, চলতি এশিয়া কাপে আর খেলতেই পারবেন না তামিম।

কিন্তু কে জানত, তামিমের এশিয়া কাপ তখনো শেষ হয়নি। কে জানত, চিকিৎসক তাঁকে মাঠের বাইরে থাকার রায় দিয়ে দেওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা পরই সেই তামিমকে আবারও মাঠে দেখা যাবে। মোস্তাফিজুর রহমান আউট হওয়ার পর ড্রেসিং রুম থেকে ব্যাট করতে বেরোচ্ছেন তামিম! বাঁম হাতের দুই আঙুলে ব্যান্ডেজ থাকায় গ্লাভসটা বিশেষভাবে কেটে পরেছিলেন। এরপর এক হাতেই ব্যাট ধরে লাকমলের সেই ওভারের শেষ বলটা যখন ঠেকালেন, নৈতিক জয় তো তখনই নিশ্চিত!

জানা গেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে তামিমকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটা দলেরই ছিল। তবে এই সিদ্ধান্তে অধিনায়ক মাশরাফির অনুপ্রেরণা ছিল সবচেয়ে বেশি। অষ্টম উইকেট পড়ার পর সিদ্ধান্ত হয় আরেক উইকেট পড়লে এবং মুশফিক যদি স্ট্রাইকে থাকেন তাহলে তামিম মাঠে ফিরবেন। সহজ হিসেব—মুশফিক স্ট্রাইকে থাকলে তামিমকে চোটগ্রস্ত আঙুল নিয়ে ব্যাট করার ঝুঁকি নিতে হবে না। তামিম নন-স্ট্রাইকে থেকে মুশফিককে সঙ্গ দেবেন আর মুশফিক একা ব্যাটিং করে বাকি কাজটুকু সারবেন।

কিন্তু সহজ হিসেবটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে নবম উইকেট (মোস্তাফিজ) পরলে। মুশফিক তখন নন স্ট্রাইকে। আর ওভারের এক বল বাকি। অধিনায়ক মাশরাফির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখন আর মাঠে নামার কথা নয় তামিমের। আর ২২৯ রানেই গুটিয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের।

মাশরাফি কিন্তু তার আগেই তামিমের মাঠে নামার যোগাড়ন্ত্র সেরে রেখেছিলেন। দুটি আঙুলে ব্যান্ডেজ থাকায় তামিমের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে গ্লাভস পরা সম্ভব হতো না। মাশরাফি তাই নিজেই তামিমের বাঁম হাতের গ্লাভসের তালুর অংশ কেটে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ওভারে মুশফিক নন স্ট্রাইকে থাকায় মাঠে ফেরার সিদ্ধান্তটা তামিমের একার কাঁধে চলে আসে। মানে, তামিমকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি মাঠে ফিরবেন কি না। এই পরিস্থিতিতে তামিমকে চেনেন এমন যে কেউ-ই বুঝতে পারবেন সিদ্ধান্তটা কার।

সংবাদমাধ্যমকে তামিম বলেছেন, ‘মোস্তাফিজ ওই ওভারের পঞ্চম বলে আউট হওয়ায় মুশফিক নন স্ট্রাইকে ছিল। সিদ্ধান্তটা তাই আমাকে নিতে হয় এবং আমি একটা বলের মুখোমুখি হয়ে মুশফিককে স্ট্রাইকে পাঠাতে চেয়েছি।’

সতীর্থদের তামিম তখন বলেছেন, আমি গিয়ে এক বল খেলব। আমি যাব। ব্যস, বাকিটা ইতিহাস। মাশরাফি সেই ইতিহাস গড়ার মন্ত্রণাদাতা, তামিম কারিগর। শুনুন তামিমের মুখেই, ‘মাশরাফি ভাই (মাঠে ফেরার) আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। সারাক্ষণ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ব্যান্ডেজ করা আঙুলের জন্য গ্লাভসও কেটে দিয়েছেন। কিন্তু মুশফিক তখন নন স্ট্রাইকে থাকায় সিদ্ধান্তটা আমাকে নিতে হয়েছে।’চোট, ব্যান্ডেজ নিয়ে তামিমের মাঠে ফেরার সেই সিদ্ধান্তের জন্যই মাশরাফি বলেছেন, লোকের উচিত তামিমকে মনে রাখা।

উল্লেখ্য, গতকাল শ্রীলঙ্কাকে ২৬২ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। জবাবে, ব্যাটিং করতে নেমে ৩৫.২ ওভার খেলে অলআউট হয়ে ১২৪ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। ফলে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেল বাংলাদেশ।