তামিম ইকবালের সাহসিকতায় মুগ্ধ শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস

গতকাল শনিবার দ্বিতীয় ওভারেই বাঁ কবজিতে চোট পেয়েছিলেন। বেরিয়ে আসতে হয়েছিল মাঠ থেকে। স্ক্যানে দেখা যায়, ভেঙেছে কবজি। এশিয়া কাপে আর খেলাই সম্ভব নয়। তার পরেও নয় উইকেট পড়ার পর ৪৭তম ওভারে তামিম ইকবালকে ব্যাট হাতে ক্রিজে যেতে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব।

২৯ বছর বয়সী তামিম তিন বলে দুই রান করে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। যখন ফিরলেন, তখন নয় উইকেটে বাংলাদেশ ২২৯। বাকি তিন ওভার। তামিম নেমে এক হাতে খেলেন ওই ওভারের শেষ বল। তাঁকে অবশ্য বাকি সময় আড়াল করে রাখেন মুশফিকুর।

তবে এক হাতে তাঁর ব্যাটিং ঝড় তোলে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বলা হয়, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের অনন্য নজির তৈরি করলেন তিনি। শেষ উইকেটে শতরানকারী মুশফিকুরের সঙ্গে তাঁর ৩২ রানের বাংলাদেশকে আড়াইশোর ওপারে পৌঁছেও দেয়। এবং বাংলাদেশ জিতেই শুরু করে এশিয়া কাপে অভিযান।

পরে ম্যাচের সেরা মুশফিকুর বলেন, “তামিমকে ব্যাট করতে আসতে দেখে অবাক হয়ে যাই। এটা দারুণ মানসিকতার পরিচয়।” বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজা বলেন,“তামিমের এক হাতে ব্যাট করা কেউ ভুলতে পারবে না। ও নিজেই ব্যাট করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদি ব্যাট করতে নাও যেত, কেউই কিছু বলত না। এই সিদ্ধান্তর জন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য ওর।”

শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস বলেছেন, “তামিম দারুণ সাহসিকতার উদাহরণ রাখল। মুশফিকেরর সঙ্গে তামিম মিলে শেষে যে রান তুলেছিল, সেটাই তফাত গড়ে দেয়।”

তিনি বলেন, ‘তামিম অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। মুশফিকও খুবই ভাল ব্যাট করেছে, আমার তো মনে হয় সে দারুণ খেলেছে। শেষের দিকে মুশফিক ক্রিজে থাকা অবস্থায় তামিম নেমেছিল, যা তাদের ২০-৩০ রান যোগ করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু তবুও আমি মনে করি এই স্কোর তাড়া করে জেতা সম্ভব ছিল।’

এসময় বাংলাদেশ দলকে জয়ের পুরো কৃতিত্ব দিয়ে ম্যাথুজ বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, তামিম অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে এক হাতে ব্যাট করতে নেমে। এভাবে ব্যাট করা কখনই সহজ নয়। কৃতিত্ব বাংলাদেশকে দিতেই হয়। তারা আমাদের সব বিভাগেই পরাজিত করেছে।’