জেনে নিন, আহত তামিমের মাঠে নামার পেছনের গল্প

দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গতরাত থেকে একটাই আলোচনার বিষয়, এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিম ইকবালের দ্বিতীয়াবারের মতো ব্যাট হাতে মাঠে নামা। আঙুলে চোট নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন তামিম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সুরঙ্গা লাকমালের বাউন্সার এসে লাগে সেই আঙুলে। আঘাতের ওপর আঘাত! তারপরও মাঠে তামিম! কীভাবে?

তামিমের মাঠে ফেরার এই গল্প জানতে গত রাত থেকেই উৎসুক হয়ে আছেন দর্শক-ক্রিকেটপ্রেমীরা। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে সেই কৌতুহল মেটানোর চেষ্টা করেছেন দেশসেরা ওপেনার। মুস্তাফিজ নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের রান ২২৯। আরও কিছু রান দরকার ছিল। মুস্তাফিজ মাঠ ছাড়লেও অপরাজিত মুশফিক মাঠ ছাড়ছেন না দেখে অবাক সবাই। সেই বিস্ময় আরও বড় আকার ধারণ করল যখন ব্যাট হাতে মাঠে নামলেন তামিম।

ম্যাচ শেষে তামিম বলেন, ‘মুস্তাফিজ আউট হওয়ার পর দেখি মুশফিক ননস্ট্রাইকে। তখন সিদ্ধান্তটা আমার উপরে চলে আসে। আমি এক বল খেলতে চলে যাই। মাশরাফি ভাই আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন। বারবার আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন। গ্লাভস কেটে তিনিই প্লাস্টার করা হাতে ঢোকানোর ব্যবস্থা করেন।’

অর্থাৎ, সেই পেছনের নায়কটির নাম মাশরাফি। যিনি গতকাল বল হাতেও আগুন ঝরিয়েছেন। ২ উইকেট নিয়ে ভেঙে দিয়েছেন লঙ্কান টপ অর্ডার। বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মুস্তাফিজ-মিরাজ-রুবেলরা। সবচেয়ে কৃপণ ছিলেন হালের সমালোচিত ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

বাংলাদেশ শুরুতে জোড়া ধাক্কার শিকার হলেও মিঠুন-মুশফিক ১৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে পথে রাখেন। কিন্তু শেষ দিকে স্কোর বড় হচ্ছিল না। তামিম ততক্ষণে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেছেন। সিদ্ধান্ত হয়, মোস্তাফিজ আউট হওয়ার পর মুশফিক স্ট্রাইকে থাকলে তামিম মাঠে নামবেন। তামিমের এমন আবেগময় দুঃসাহসের দিনে ১৫০ বলে ক্যারিয়ারসেরা ১৪৪ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক। ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাজ জিতে বাংলাদেশ।-সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন