তামিমের এক হাতের কাছেই হেরেছে লঙ্কানরা

গতকাল শনিবার শ্রীলঙ্কাকে ২৬২ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। জবাবে, ব্যাটিং করতে নেমে ৩৫.২ ওভার খেলে অলআউট হয়ে ১২৪ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। ফলে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেল বাংলাদেশ।

সবাই ধরে নিয়েছিলেন, ২২৯ এই গুটিয়ে গেল টাইগাররা। হতাশ হয়ে টিভি সেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন অনেকেই।

যদিও লেজের ব্যাটসম্যানদের ওপাশে রেখে মুশফিক তো শতক হাঁকিয়েছিলেনই, তবে ২২৯ রান! বিশ্বকাপজয়ী একটি দলের জন্য মোটেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর নয়।

কিন্তু হঠাৎ ক্রিড়ামোদীদের বিস্ময়। সবাই দেখল, হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে নামছেন তামিম! দুবাইয়ের হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির চোখ চকচক করে উঠল।

এক হাতে ব্যাট ধরে ক্রিজে দাঁড়ালেন তামিম। দায়িত্ব শুধু সেঞ্চুরিয়ান মুশফিককে সঙ্গ দেয়া। ব্যস এতেই কাজ হয়ে গেল।

কতটা পেশাদারিত্ব থাকলে গুরুতর ইনজুরি নিয়েও দলের প্রয়োজনে ব্যাটিংয়ে নামা যায়- তার নজির স্থাপন করলেন তামিম ইকবাল।

২২৯ রানে ৯ উইকেটের পতন ঘটিয়ে সুখের ঢেকুর যখন তুলছিলেন মালিঙ্গারা, ঠিক তখনই দেশের ১ নম্বর ব্যাটসম্যান নাম লেখালেন ১১ নম্বরে।

ক্রিকেটবোদ্ধাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের এ কৌশলটাই বদলে দিয়েছে পুরো ম্যাচের চেহারা। তামিমের এমন দেশপ্রীতি, এমন পেশাদ্বারিত্বের কাছেই হেরে গেছে হাথুরুসিংহের দল।

তামিম এক হাতে ব্যাটে বল ছুঁয়েই যখন ১ রানের জন্য দৌড়ে গেলেন অপরপ্রান্তে সামাজিকমাধ্যম ভেসে গেল তখন তামিম বন্দনায়।

ফেসবুকের নিউজফিড ভেসেছে স্ট্যাটাসের বন্যায়-

* ম্যাচ হারলেও দুঃখ নেই। তামিম হৃদয় জিতে নিয়েছে।

* রান না করেও কী করে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে হয় তা দেখিয়ে দিলেন তামিম।

* জয়ের স্বাদ তামিমের দেশপ্রেমেই পেয়ে গেছি।

এভাবেই ম্যাচসেরা মুশফিকের দুর্দান্ত হার না মানা ১৪৪ রানের ইনিংসটিকে পাশ কাটিয়ে অনন্য উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছেছে ওয়ান হ্যান্ডেড তামিম।

এদিকে তামিমের চোট এতটাই গুরুতর যে, এশিয়া কাপ এলেই শেষ কিনা, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে ওয়ান হ্যান্ডেড তামিমের প্যাশনের কাছেই যে হেরেছে রাবনের লংকা, সে কথাই বলছে ক্রিকেটবিশ্ব।

উল্লেখ্য, ২৬২ রানের টার্গেটে ব্যাটিং শুরুতেই কুশাল মেন্ডিসকে এলবিডব্লিউয়ে আউট করেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। এর পর মাশরাফী বোল্টআউট করে দিলেন উপুল থারাঙ্গাকে। পরে আবারো উইকেট পান তিনি। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লিউয়ে আউট করলেন মাশরাফী। এরপর কুশাল পেরেরাকে অাউট করেন টাইগার মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর সানাকাকে এলবিডব্লিউয়ে আউট করলেন রুবেল । ভয়ংকর হয়ে উঠার থিসারাকে ফিরালেন মিরাজ।