মুশফিককে দেখে যা বলল ভারতীয় ক্রিকেটার

সাকিব-তামিমের অনিশ্চয়তার মাঝে ম্যাচ শুরুর আগে দেখা দেয় নতুন এক শঙ্কা। দলের ভেতর থেকে চাপা খবর আসতে থাকে শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন না পঞ্চপান্ডবেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মুশফিকুর রহীম। শুধু তাই নয় গুঞ্জন শোনা গেছে দেশে ফেরার বিমানে চাপতে হবে মুশফিককে।

টিম ম্যানেজম্যান্টের পক্ষ থেকে ম্যাচের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি এ বিষয়ে। কেননা প্রতিপক্ষের জন্য এ খবরটি হতে পারতো বোনাস পয়েন্ট। দলের মধ্যে সংশয় থাকলেও নিশ্চিত ছিলেন মুশফিক। জানিয়ে দেন প্রয়োজনে বুকে-পাঁজরে টেপ পেঁচিয়েই খেলে দেবেন প্রথম ম্যাচটা। কেননা অধিনায়ক, কোচসহ সবাই বারবার বলেছেন টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ দলের জন্য।

পরে ম্যাচে শুধু খেলেননি মুশফিক, জিতেছেন নিজে, জিতিয়েছেন দলকে। পাঁজরের চিড় নিয়েই ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই নেমে পড়তে হয় মাঠে। উইকেটে থাকেন শেষ ওভারের তৃতীয় বল পর্যন্ত। বড় শট খেলতে সমস্যা হবে বিধায় শুরুতে ইনিংস সাজান সিঙ্গেল-ডাবলস নিয়ে।

কিন্তু বর্তমান সময়ে সিঙ্গেল-ডাবলস নিয়ে কি আর বেশিদূর যাওয়া যায়! তাই বড় শট খেলতে শুরু করেন মুশফিক। প্রতিটা শটের পরেই দেখা যায় কেমন কুকড়ে যাচ্ছেন মুশফিক। ১৫০ বলে ইনিংসে বলকে ১৫ বার (১১ চার ও ৪ ছক্কা) বাউন্ডারি ছাড়া করেন তিনি।

ইনিংসের মাঝপথেই পাঁজরের ব্যথার সাথে যুক্ত হয় ক্র্যাম্প। দুবাইয়ের অত্যধিক গরমে টান লাগে পায়ের পেশিতে, সমস্যা হয় দৌড়াতে। তবু থামানো যায়নি মুশফিককে। ইনিংসের ৪৭তম ওভারে ভাঙা হাত নিয়েই তামিমের নেমে পড়া দেখে যেন বাড়তি সাহস পেয়ে যান তিনি। ভাবতে শুরু করেন ভাঙা হাত নিয়ে তামিম পারলে, আমি কেন নয়!

৪৭তম ওভারের শেষ বলটা এক হাতেই খেলে দেন তামিম। শেষ উইকেটের এ জুটি পরে খেলে আরও ১৫টি বল। সবক’টি মোকাবেলা করেন মুশফিক। বড় শট খেলতে সমস্যা থাকা স্বত্বেও এই ১৫ বলে তিনটি করে চার-ছক্কার মারে ৩২ রান তোলেন মুশফিক। তামিমের সাথে দশম উইকেট জুটির এ ৩২ রানই এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও চেন্নাই সুপার কিংসের খেলোয়ার বাদ্রিনাথ বলেন, ‘মুশফিকের লড়াকু ইনিংসটাই দলের ভীতটা তৈরি করে দিয়েছে। দলের আত্মবিশ্বাস শতোগুন বাড়িয়ে দিয়েছিল মুশফিকের ১৪৪ রানের দূর্দান্ত ইনিংস। দূর্দান্ত ভাবে ঘুড়ে দাড়িয়েছিল টিম টাইগার্সরা। যার যতোটুকু ছিল সবটুকুই ঢেলে দিয়েছিল ম্যাচে।’