তামিমকে নিয়ে গর্বের যে কথা জানালেন বড় ভাই নাফিস ইকবাল

এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসে ব্যাট করথে নেমে সুরাঙ্গা লাকমালের বাউন্সারে তামিম ইকবাল বাঁহাতে চোট পাওয়ার পরপরই বাতাসে খবর রটে যায় এশিয়া কাপ শেষ তার। অর্থাৎ ছয় জাতির ক্রি‌কেট শ্রেষ্ঠ‌ত্বের চলমান লড়াইয়ে ব্যাট হাতে গর্জে উঠতে দেখা যাবে না লাল-সবুজের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে মাঠে ফেরত তামিমকে নিয়ে জানা যায়, কব্জিতে মারাত্মক চোট পাওয়ায় আগামি ৬ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তামিমকে।

কিন্তু শনিবারের (১৫ সেপ্টেম্বর) ওই ম্যাচের ৪৭ ওভারে মুস্তাফিজের আউট হবার পর তামিম যা করে দেখালেন তাতে চমকে উঠলো পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ইনিংসের শুরুতে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েই সরাসরি চলে যান হাসপাতালে। সেখান থেকেই ব্যান্ডেজ করিয়ে ফেরেন। স্লিংয়ে ঝুলছিল হাত। সেই হাত নিয়েই বাঁহাতি তামিম ডানহাতে ব্যাট নিয়ে একাদশ ব্যাটসম্যান হিসেবে নেমে যান মাঠে।

যেন সম্বিৎ ফিরছিল না! ম্যাচের সে মুহূর্তে একমাত্র মুশফিক ছাড়া আর কেউ যে নেই। দলের রান মাত্র ২২৯। একাদশ ব্যাটসম্যান হিসেবে কেউ নামলে হয়তো মুশফিক ব্যাট চালিয়ে আরও কিছুটা রান বাড়িয়ে নিয়ে লড়াকু একটা ইনিংস এনে দিতে পারবেন বাংলাদেশকে। আর এমন সব ভাবনার মাঝেই ব্যাট হাতে নেমে গেলেন তামিম। এক হাতে খেলার জন্য।

ডানহাত দিয়ে লঙ্কান বোলারকে কোনরকম ঠেকিয়ে স্ট্রাইক দিলেন মুশফিককে। স্ট্রাইক নিয়ে মুশফিকও ব্যাটে কাঁপন ধরালেন। ৩ ওভারে এলো ৩২ রান। তাতে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়াল ২৬১। ফাইটিং স্কোর। যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই তামিম ইকবাল।

সংবাদ মাধ্যম, ফেসবুক, টুইটারে তামিম বন্দনার ঝড় ওঠে। তার বীররোচিত মানষিকতায় বাঙালি হিসেবে গোটা জাতি হয় গর্বিত। অধিনায়ক ও অন্যান্য ক্রিকেটারদের কন্ঠে ঝরে সুনাম।

দলের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে অনুজের এমন দায়িত্বশীল ও নির্ভীক মানষিকতায় দেশের অন্য আট দশজনের মতো গর্বিত অগ্রজ নাফিস ইকবালও। পাশাপাশি দেশবাসীকে অনুরোধ করলেন তামিমের দুঃসময়ে দেশবাসী যেন এই নিবেদনের কথা ভুলে না যায়।

‘আমি বাংলাদেশের সবাইকে অনুরোধ করবো এই জিনিসটা যাতে মনে রাখে। এখন সবাই প্রশংসা করছে হয়তো দুদিন পর মানুষ তাকে নিয়ে অন্যরকম মন্তব্য করতে পারে। ভাই হিসেবে আমি গর্বিত, দেশকে সে গর্বিত করেছে। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবেও আমি গর্বিত। তাকে এই কাজের জন্য যেন সবাই মনে রাখে।’