মিঠুনকে যেন ভুলে না যাই

‘খুব চাপের মুখে মিঠুন খেই না হারিয়ে চাপ সামলে দিয়েছে।’ ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ঘটনা সত্যি। চাপটা যেমন তেমন ছিল না! একেবারে পাহাড়সম। তাও মিথুনের মতো অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জন্য তো সমুদ্র পাড়ি দেয়ার মতো।

প্রথম ওভারেই নেই লিটন, সাকিব। দলের রান যখন মাত্র ৩, তখন কব্জিতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেন দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। এমন পরিস্থিতিতে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদেরও চোয়াল বেয়ে ঘাম ঝরে। কিন্তু এদিন মোটেও আড়ষ্ট ছিল না মিঠুনের ব্যাট। ভাগ্যদেবীও এদিন করুণার আঁচল ফেলেছিল জাতীয় দলে নড়বড়ে মিথুনের মাথায়। মাত্র ১ রানে লাসিথ মালিঙ্গার বলে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। ম্যাথুসের ‘পিচ্ছিল’ হাতই বাঁচিয়ে দেয় তাকে।

তবে নিজেকে সামলে নিতে খুব বেশি সময় নেননি মিঠুন। মুশফিকের সঙ্গে গড়ে তোলেন ১৩১ রানের পার্টনারশিপ। নিজে খেলেন ৬৮ বলে ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানের বিশায় জয়ের পর ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মুশফিক এবং তামিমের বিরত্বগাঁথায় ঢাকা পড়ে গেছে মিথুনের অবদান! মুশি-তামিম, দুই প্রদীপের নিচে অন্ধকারে মিশে গেছেন মিথুন।

বাংলাদেশ টিম এখন পুরোপুরি নির্ভরশীল ‘পঞ্চ পাণ্ডবের’ ওপর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ইনজুরি নিয়েই পাণ্ডবরাই লড়েছেন। যেখানে সৌম্য, লিটন, এনামুল, সাব্বির, মোসাদ্দেকরা একের পর এক সিরিজে ব্যর্থ হচ্ছেন সেখানে নতুনদের নিয়ে নতুন করে আশা দেখাতে পারে মিথুনের এই লড়াই। গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই তার ব্যাট হেসেছে। কিন্তু জাতীয় দলে যে ফরম্যাটেই সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই ব্যর্থ হয়েছেন।

এরআগে তিন ওয়ানডেতে তার রান ছিল ৩৬। চলতি বছর জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুযোগ পেয়েছিলেন। সেবার আউট হয়েছিলেন মাত্র ১০ রানে। স্ট্রাইক রেট (৩৭.০৩) এতটাই খারাপ ছিল যে নির্বাচকদের আস্থার কিছুই তাতে পূরণ হয়নি।

তারপর আবার দলের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয় মিঠুনকে। জায়গা হয় ‘এ’ দলে। তবে একটা অভিযোগ করতেই পারেন মিঠুন। তাকে কখনোই একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। গত আগস্টে আয়ারল্যান্ড সফরে ভাল পারফর্ম করে এশিয়া কাপে জায়গা করে নেন মিঠুন। সাব্বির, সৌম্যরা বাদ পড়ার পর মিঠুন, শান্তর দলে জায়গা পাওয়াতে খুব একটা সমালোচনা না হলেও কিছুটা কানাঘুঁষা ছিল।

আর এশিয়া কাপের মঞ্চটা মিঠুনের কাছে বিশেষ এই কারণে যে, এখানে ভালো করতে না পারলে সহসা সুযোগ মিলবে না জাতীয় দলে। একথা মিঠুনও খুব ভালো করেই জানেন।-সময় নিউজ।