আমি শুধু আমার দল এবং দেশের কথা ভেবে নেমেছিলাম : তামিম

৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলে মোস্তাফিজ রান আউট। ব্যস, ৯ উইকেটে ২২৯ রানেই বাংলাদেশও অলআউট। তামিম ইকবাল আঘাত পেয়ে ফিরে যাওয়ায় ১১তম ব্যাটসম্যান হিসেবে কারও নামার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু সাহসের অন্য নাম হয়ে সেই তামিম-ই যখন ব্যাটিং করতে ফিরলেন, মুশফিক তখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন বাড়তি কিছু করার।

মুশফিক ততক্ষণে সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন। কিন্তু তামিমের সাহসিকতা তাঁকে উদ্দীপ্ত করল নতুন করে। আর তাই শেষ উইকেটে জন্ম নিল এক রূপকথা। যেখানে তামিম যদি হন সাহসিকতার অপর নাম মুশফিক তাহলে সেই সাহসিকতাকে প্রাপ্য সম্মান বুঝিয়ে দেওয়া বীর। দুজনেই জাত যোদ্ধা—চোট বিবেচনায় নিলে কথাটা বলাই যায়।

দেশ কিংবা দেশের বাইরের ক্রীড়াপ্রেমীরা অভিভূত হয়েছেন তামিমের এমন সিদ্ধান্তে, প্রশংসা করেছেন তার সাহসিকতার। এক হাতে ব্যাট করতে নেমে পড়ার আগে কি ভাবছিলেন তামিম? কি চলছিল তার মনে? পরিকল্পনাই বা কি ছিল?

এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো সবার মনে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল তামিমের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তই ছিল মাঠে নেমে এক বল খেলে দেয়া। পরে জানা গেল এর বিস্তারিত বর্ণনা।

নায়কোচিত এই ঘটনার পর প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন তামিম। ইএসপিএনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি জানান, আবেগের বশেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বাম-হাতি এই ব্যাটসম্যান বলেন, এই এশিয়া কাপ নিয়ে আমার অনেক উচ্চাশা ছিল এবং আমি ওই মুহূর্তে আবেগের বশেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল যদি আমি এক বল খেললে দল আরও ৫-১০ রান করতে পারে এবং সেটা দলের উপকারে আসে, তাহলে কেন নয়? কেউ হয়তো আশা করেনি যে আমি ১ বল খেললে অপর প্রান্ত থেকে ৩২ রান আসবে।

মুশফিক অসাধারণভাবে শেষ দিকটা সামলেছে।২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের হয়ে ১৮৩ ম্যাচ খেলা এই ব্যাটসম্যান বলেন, আমার মনে হয় না আমার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়েছে। এখন আমি সবার প্রতিক্রিয়া দেখছি, কিন্তু আমি যখন ব্যাট করতে নামছিলাম এসব কোন কিছুই তখন আমার মাথায় ছিল না। আমি শুধু আমার দল এবং দেশের কথা ভেবেই মাঠে নেমেছিলাম।

জাতীয় দলের জার্সিতে ওয়ানডে ৬ হাজারের বেশি রান করা এই ওপেনার আরও বলেন, এখন মনে হচ্ছে খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কাজটা। আঘাতপ্রাপ্ত হাতটা আমার পেছনে ছিল, যদি খেয়াল করে থাকেন শট খেলার সময় হাত সামনে চলে এসেছিল আর বলটি মিস করলেই আমার ওই হাতেই আবার লাগতো।

তামিম বলেন, ড্রেসিং রুমে মাশরাফি ভাই প্রথমে ব্যাটিং করার বিষয়ে কথা তুলেছিলেন। ভেবেছিলাম তিনি মজা করছেন। পরে আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নেই। রুবেল ক্রিজে থাকাকালীন প্যাড পরা শুরু করি। মাশরাফি ভাই আমার গ্লাভস কেটে দেন। জীবনের প্রথম কেউ (মুমিনুল) আমাকে গার্ড পরিয়ে দেয়। সবাই আমাকে সাহস দিচ্ছিলেন।

মাঠে নামার সময় দর্শকদের প্রতিটি চিৎকার আমাকে সাহস যোগাচ্ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি হয়তো আউট হয়ে যেতে পারতাম বা যেকোনো কিছুই হতে পারতো, তবে ওই মুহূর্তে আমি দল এবং দেশের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম।