টিনএজ সন্তানকে যেভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন

ইদানিং বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আপনার সন্তানটি। কোনো কথা তো শুনছেই না বরং যাই বলছেন উল্টো চিৎকার করছে সে আপনার সাথে। ইদানিং তার বন্ধু বান্ধবের নেশাও বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে তার রাত জাগা। কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন তাকে?

টিন এজ বয়সটা বেশ জটিল একটি বয়স। এসময়ে শারীরিক ও মানসিক নানান পরিবর্তনের কারণে ছেলে মেয়েরা বেশ বদমেজাজী ও চাপা স্বভাবের হয়ে ওঠে। আর মানসিক নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে নানা ভুল করে বসে তারা। অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে অনেক সময় অনেক দূর্ঘটনাও ঘটিয়ে ফেলে। জেনে নিন টিন এজার সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করার কিছু উপায় সম্পর্কে।

আগে থেকেই কিছু বিষয় জানিয়ে রাখুন
টিনএজার সন্তানকে কিছু কিছু বিষয় আগেই জানিয়ে রাখা উচিত। বিশেষ করে মেয়েদেরকে মাসিক হওয়ার আগেই বিষয়টি জানিয়ে দেয়া উচিত। নাহলে তারা ঘাবড়ে যেতে পারে। এছাড়াও তাদেরকে শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দিন।

সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন
টিন এজারদের সঙ্গে অধিকাংশ অভিভাবক যে ভুলটি করে থাকে তা হলো তাদের কথায় মনোযোগ না দেয়া। তাদের কথা মন দিয়ে না শুনলে তারা বেশ একগুঁয়ে হয়ে ওঠে এবং বাবা মায়ের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ কমে যায়। ফলে তারা খারাপ ব্যবহার করে বাবা মায়ের সাথে।

সব কিছুতেই ‘না’ বলবেন না
আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই তাদের সন্তানদের সব আবদারকেই একবাক্যে না বলেন দেন যা একেবারেই উচিত না। টিনএজারদের কিছু কিছু আবদার পূরণ করুন। সাধ্যের বাইরে কোনো আবদার করলে সেটা তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন। তাহলে তারা জিদ না করে বাবা মা কে বোঝার চেষ্টা করবে।

কোনো কিছু নিয়ে জোর করবেন না
টিনএজারদের কে কোনো বিষয় নিয়ে জোর করা উচিত না। তাদেরকে যে কোনো বিষয়ে রাজি করাতে হলে বুঝিয়ে বলুন। জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না।

বোঝার চেষ্টা করুন
টিনএজারদেরকে বোঝার চেষ্টা করুন। তার স্থানে আপনি নিজেকে কল্পনা করুন। তার স্থানে আপনি হলে কি করতেন সেটা চিন্তা করুন। তাহলে বাবা মায়ের সাথে টিনএজার সন্তানের ভুল বোঝাবোঝি অনেকটাই কমে যাবে।

বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন
আপনার টিনএজার সন্তানের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিন। তার সারাদিনের খোঁজ খবর রাখুন। কি করছে, কোথায় গিয়েছে, কি খেয়েছে এসব জিজ্ঞাসা করুন। তার অভিভাবক না হয়ে বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন সবসময়। তাহলে তার যেকোনো সমস্যা সে আপনাকে মন খুলে বলার সাহস পাবে।

প্রাইভেসি দিন
টিন এজাররা প্রাইভেসি চায়। নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে একটি গান শোনা কিংবা বন্ধুদের সাথে গসিপ করতে পছন্দ করে তারা। তাই সারাক্ষণ নজরদারী না করে দিনের কিছুটা সময় তাকে নিজের মত থাকতে দিন।