অতিরিক্ত নয়, পানি পান করুন পরিমিত…

পানির অপর নাম জীবন- এ কথা সবারই জানা। এটি প্রতিটি মানুষের শরীরে ভীষণভাবে প্রয়োজন। পানি ছাড়া সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব নয়। এই পানির সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় থাকে।পাতলা রক্ত শরীরে প্রয়োজনীয় কারণ এটি খুব সহজেই প্রবাহিত হতে পারে।

তবে রক্ত যদি গাঢ় হয়ে যায় তবে এটি শরীরে প্রতিটি অঙ্গে পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে না। রক্তকে পাতলা রাখার কাজ কিন্তু একমাত্র পানিই করে থাকে। পানি যদি কম পান করা হয় তবে শরীরে রক্তপ্রবাহ ব্যহত হতে পারে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পানি পানের অভ্যাস থেকেও হতে পারে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা।

পানির রয়েছে দুটি ধরন। উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী জল শরীরে সুস্থতা প্রদান করে। ঠাণ্ডাপানি শরীরে পিত্তের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম। এছাড়াও প্রদাহ, রক্তের গোলযোগ, মাদকের মহামারী, ক্লান্তি এবং অন্যান্য মারাত্মক সমস্যাগুলো থেকে রেহাই দেয় ঠাণ্ডা পানি। গরম পানি স্রাব, অর্শ্বরোগ, যকৃতের রোগ, পিঠ ব্যথা, সর্দি বাহিত রোগ, গলার সমস্যা ছাড়াও ফোঁড়া, ব্রণ, হিক্কাপ ও অন্যান্য সমস্যার হাত থেকে মুক্তি দেয়।

পানি পানের সাধারণ পদ্ধতি
সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার প্রথমে খানিকটা পানি পান প্রকৃতিক নিয়ম এবং এতে শরীরে ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রায়ই কেউ কেউ সকালে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে করে আবার কেউ কেউ একেবারে কম পরিমাণে পান করে। এটা করা একেবারেই উচিত নয়। সকালে ১ থেকে ২ গ্লাস পানি পান করুন।

খাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে এবং খাওয়ার ১ ঘণ্টা পর পানি পান করা উচিত। খাবার সময় যদি পানি পান করতেই হয় তবে তা একেবারে সামান্য মাত্রায়। খাওরা সময় বেশি পরিমাণে পানি পান করলে এটি পাচন রসকে প্রভাবিত করে। ফলে শরীরে খাবার পাচন প্রক্রিয়া ব্যহত হতে পারে।

কখন পানি পান করবেন না
কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে পানি পান থেকে বিরত থাকা ভালো। মলত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করবেন না। এছাড়াও রোদ থেকে ঘুরে আসার পর যতক্ষণ না শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হচ্ছে ততক্ষণ পানি স্পর্শ না করাই উত্তম। কঠোর পরিশ্রম বা ব্যায়ম করার ঠিক পরেই পানি একেবারেই পান করবেন না। দুপুরের খাবার খাওয়ার ঠিক আগে এবং পরে পানি পান করবেন না।

কিছু কিছু ফল যেমন তরমুজ, পেয়ারা, আতা বা অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ বাদে পানি পান করুন। এছাড়াও রতিক্রিয়া করার সঙ্গে সঙ্গেই পানি পান না করাই উত্তম।অতিরিক্ত পানি পানের ক্ষতি

প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান যেমন শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর, তেমনই অতিরিক্ত পানি পানের অভ্যেসও শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত পানি পান শরীরে বিভিন্ন রোগকে আমন্ত্রণ করে আনতে পারে। যেমন – স্থূলতা, কিডনির রোগ, পক্কতা, ত্বকের রোগ ইত্যাদি। তাই দিনে ২ থেকে ৩ লিটারের (১০-১২ গ্লাস) বেশি পানি পান না করাই ভালো।