অভিনয়ের মাধ্যমে ভক্ত হৃদয়ে পূর্ণিমার আলো

অভিনয়ে, রূপে, গুণে সৃষ্ট এক অপরূপা অনন্যার নাম পূর্ণিমা। নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নিজের অভিনয় নৈপুণ্যের মাধ্যমে আলো ছড়াতে ঢাকাই ছবিতে পা রাখেন তিনি। ভক্তকুলের ভালোবাসা নিয়ে ক্যারিয়ারে প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছেন এ নায়িকা।

অভিনয় দক্ষতার গুণে ভক্ত হৃদয়ে আসন করে নেয়া ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় যে কয়েকজন নায়িকা রয়েছে তার মধ্যে একটি নাম পূর্ণিমা। নামে নয়, নিজ গুণেই নামকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ভক্ত হৃদয়ে ছড়িয়েছেন পূর্ণিমার আলো।

পারিবারিক নাম দিলারা হানিফ রিতা। যিনি পূর্ণিমা হয়ে আলো ছড়াতে ১৯৯৭ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবির মাধ্যমে ঢাকাই ছবিতে পা রাখেন।

তারপর ২০০১ সাল থেকে শুরু করে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অনেক ব্যবসাসফল ছবি। তার অভিনীত ‘লাল দরিয়া’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘সুভা’, ‘রাক্ষুসী’, ‘শাস্তি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ আরও অনেক ছবি এখনও দর্শক হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।

২০০৩ সালে মুক্তি পায় তার সব থেকে ব্যবসাসফল ছবি ‘মনের মাঝে তুমি’। এটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত বাংলাদেশের সব থেকে ব্যবসাসফল দশটি ছবির মধ্যে অন্যতম।

২০১০ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন পূর্ণিমা। এ ছাড়া রয়েছে আরও অনেক বেসরকারি পুরস্কার।

২০১১ সাল থেকে তিনি ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি টিভি নাটকেও কাজ করেছেন। বিয়ে পরবর্তী কন্যাসন্তানের জননী হওয়ার পর থেকে অভিনয়ে কিছুটা বিরতি নিলেও সবকিছু গুছিয়ে আবারও ফিরেছেন সিনেমায়। গতকাল ‘গাঙচিল’ নামে নতুন ছবির মহরতও হয়েছে। এ

ছবির মধ্য দিয়েই মূলত ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রত্যাবর্তন ঘটছে এ নায়িকার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভালো কিছুর অপেক্ষায় ছিলাম। সেটা পেয়েছি। এবার ভালোভাবেই শুরু করতে চাই।’ কিন্তু এর আগেও তো কিছু ছবির প্রস্তাব পেয়েছেন। কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

কিন্তু সেগুলোতে আর কাজ করেননি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে পূর্ণিমা বলেন, ‘কারণ তো অবশ্যই আছে। শুরুতে আমাকে সেসব ছবির যে গল্প শুনিয়েছিলেন নির্মাতা বা প্রযোজকরা, পরবর্তীতে দেখেছি আমার চরিত্রে গভীরতা কম। বা স্ক্রিপ্টের পর দেখেছি গল্পে গভীরতা নেই। এসব কারণেই করা হয়নি।

তা ছাড়া নিজেকেও পুরোপুরি গোছানোর বিষয় ছিল। এখন আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গল্প এবং চরিত্রও পেয়েছি মনের মতো। তাই কাজ করছি।’ গাঙচিল ছাড়াও একই নির্মাতার ‘জ্যাম’ নামে একটি ছবিতেও কাজ করার কথা রয়েছে এ নায়িকার। এ ছবিটি প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার প্রযোজনা সংস্থা ‘কৃতাঞ্জলী চলচ্চিত্র’ থেকে নির্মিত হবে।

সিনেমায় দীর্ঘদিন না থাকলেও টিভি পর্দায় প্রায় নিয়মিতই ছিলেন পূর্ণিমা। গত এক বছর ধরে আরটিভিতে ‘এবং পূর্ণিমা’ নামে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপস্থাপক হিসেবে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, ‘উপস্থাপনার বিষয়টি এখন আমি খুব উপভোগ করি। তা ছাড়া স্বনামে অনুষ্ঠান হওয়ার কারণে এটি আমার কাছে আরও বেশি ভালোলাগার।’

তথ্যসূত্র: যুগান্তর