এ কারণেই মাহমুদুল্লাহ অন্য রকম

চলতি এশিয়া কাপে সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ৮৭ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় আরো একটা ব্যাটিং বিপর্যয়ের দুঃসহ গল্পই যেনো অপেক্ষা করছিলো। যেনো অপেক্ষা করছিলো আরো একটা করুণ হার, যে হার দেশে ফেরার টিকিট ধরিয়ে দিতো মাশরাফিদের হাতে। এর চেয়ে বড় কথা, আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরপর দুটি ওয়ানডেতে হার বাংলাদেশের জন্য হয়ে থাকতো গ্লানিকর।

এ রকম অবস্থায় সীমাহীন চাপ নিয়ে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন মাহমুদুল্লাহ। যে চাপে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার গল্পগুলোও পুরোনো নয়। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ এ দিন দাঁড়িয়ে যান দৃঢ়তার অন্য নাম হয়ে। উইকেটে সঙ্গী হিসেবে তিনি পান ইমরুল কায়েসকে। আগের রাতেই যিনি ঢাকা থেকে উড়ে গেছেন আরব আমিরাতে। দুবাই থেকে ১৫০ কিলোমিটারের সড়ক পেরিয়ে গেছেন আবুধাবিতে।

এই পরিস্থিতিতে দলের জন্য যা করণীয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ করেছেন ঠিক তাই। পাহাড়সমান চাপ মাথায় নিয়ে দেখিয়েছেন সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগ। খেলেছেন ৭৪ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস। একই সাথে ইমরুল কায়েসকেও যুগিয়েছেন সাহস। ষষ্ঠ উইকেটে এ দুজন গড়েন ১২৮ রানের জুটি। এ জুটিই মূলত বাংলাদেশকে এনে দেয় ম্যাচ জয়ের ভিত।

কিন্তু মাহমুদুল্লাহ এতো চাপে এতোটা ভালো কিভাবে খেলেছেন? এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অসাধারণ সেঞ্চুরি, নিদাহাস ট্রফিতে ম্যাচ জেতানো ইনিংস; চাপ এলেই কিভাবে এতোটা দাপুটে হয়ে উঠেছেন তিনি? নিজের এই অন্য রকমের ব্যাখ্যা নিজেই দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ।

সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘চাপ হয়তো আমাকে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ করে দেয়। এ ছাড়া দলের জন্য কিছু করার তাড়াও থাকে।’ এই তাড়া থেকেই রশিদ খানকে দুইবার আছড়ে ফেলেছেন সীমানার বাইরে। অথচ এই রশিদ খানই বাংলাদেশের জন্য পুরো ম্যাচে হয়েছিলেন আতঙ্কের অন্য নাম। এই সাহস ও কিছু করার তাড়াই মাহমুদুল্লাহকে করে তুলেছে অন্য রকম। যে কোনো বিপদে যার কাঁধে ভরসা করতে পারে দল।