ফজর নামাজের ফযিলত

নামাজ প্রসঙ্গে আমাদের প্রিয় নবী হযরম মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এশার নামাজের জামাতে হাযির হবে, তার জন্য অর্ধ-রাত পর্যন্ত কিয়াম করার (অর্থাৎ নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা) নেকি হবে। আর যে এশাসহ ফজরের নামাজ জামাতে পড়বে, তার জন্য সারা রাতব্যাপী কিয়াম করার সমান নেকি হবে।” (মুসলিম শরীফ)।

অপর একটি হাদিসে রাসুল সা. বলেন, “যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত কিয়াম (ইবাদত) করল। আর যে ফজরের নামাজ জামাতসহ আদায় করল, সে যেন সারা রাত নামাজ পড়ল।” (মুসলিম শরীফ) উমার ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় অযীফা (দৈনিক যথা নিয়মে তাহাজ্জুদের নামাজ) অথবা তার কিছু অংশ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, অতঃপর যদি সে ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে তা পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য তা এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যেন সে তা রাতেই পড়েছে। (মুসলিম শরীফ)।

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “মুনাফিকদের উপর ফজর ও এশার নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী নামাজ আর নেই। যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত।” (বুখারি)। আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যদি লোকে এশা ও ফজরের নামাজের ফজিলত জানতে পারত, তাহলে তাদেরকে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা অবশ্যই ঐ নামাজদ্বয়ে আসত।”(বুখারি) আবু যুহাইর ‘উমারাহ ইবনে রুআইবাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজরের ও আসরের নামাজ) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।”

(মুসলিম) জাবের ইবনে সামরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সা. যখন ফজরের নামাজ সমাপ্ত করতেন তখন ভালোভাবে সূর্যোদয় না হওয়া অবধি নামাজ পড়ার জায়গাতেই দুই বা গুটিয়ে (বাবু হয়ে) বসে থাকতেন।’ (মুসলিম)।