এবার ইমরুল কায়েসকে যে পরামর্শ দিলেন বিশ্বসেরা ভিভ রিচার্ড

২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস। তবে সেই সেঞ্চুরিটি মনে রাখতে চাইবেন না তিনি।সেদিন মার্টিন গাপটিলের ৯১ রানের ইনিংসের কাছেই হার মানতে হয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। তবে ইমরুল হয়তো তখনো জানতেন না যে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেতে আরও ছয় বছর সময় অপেক্ষা করতে হবে!

আবার দ্বিতীয় সেঞ্চুরির ইতিহাসও মনে রাখতে চাইবেন না ইমরুল। কেননা সেই ম্যাচেও হেরেছে বাংলাদেশ। তবে যাই হোক, ইমরুল কায়েসের ওয়ানডে ক্যারিয়ারও যেন তাঁর করা দুটি সেঞ্চুরির মতই বিভক্ত।

এক ধাপে তিনি ছিলেন নির্লিপ্ত, টেকনিকে দুর্বল একজন ব্যাটসম্যান। আরেক ধাপে তিনি অধ্যবসায়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক পরিশ্রমী ক্রিকেটার।অভিষেকের পর কায়েসের ক্যারিয়ারের শুরুর ভাগে (২০০৮ থেকে ২০১৫ বিশ্বকাপ) ৫৮ টি ওয়ানডে ইনিংসে তিনি করেছেন ২৭.১৫ গড়ে ১৫৪৮ রান। স্ট্রাইক রেট ছিল ৬৫ এর একটু বেশি। এক সেঞ্চুরির পাশাপাশি ফিফটি ১২ টি।

আর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়ভাগে (২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ২০১৭) ১২ টি ইনিংসে ইমরুলের সংগ্রহ সাড়ে ৩৭ গড়ে ৪৫০ রান। এবার স্ট্রাইক রেটও কিছুটা বাড়ন্ত, ৭৭.৩১।সেঞ্চুরি আছে একটি, ফিফটি আছে দুটি এবং ৩৫ থেকে ৪৯ রানের মধ্যে আছে আরও তিনটি ইনিংস। অর্থাৎ, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ধাপে একটু বেশিই সফল এই ওপেনার।

জানিয়ে রাখা সমীচীন, এমনই এক দ্বিতীয় অধ্যায়ের অপেক্ষায় ছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। বর্তমানে ৩১ বছর পার করতে থাকা কায়েস বহু আগে থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ধাপে ভাল করার।

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সময় আমি ভিভ রিচার্ডসের সাথে কথা বলেছিলাম, আমার ব্যাটিং নিয়ে। আমি রান পাচ্ছিলাম না এবং ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘৩০ বছর বয়সের পরেই রান করার সবচেয়ে ভাল সময় আসে।

‘এই সময় ব্যাটসম্যান তাঁর খেলাকে সম্পূর্ণ বুঝতে পারে। সে জানে দলের প্রয়োজনে কখন ব্যাটিং এর গতিপথ বদলাতে হবে। ৩০ এর পরের পাঁচ-ছয় বছর ব্যাটসম্যানদের জন্য নিজের আধিপত্য সৃষ্টি করার সময়। আমার ক্ষেত্রেও এমন কিছু হোক, এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী,’ ক্রিকবাজের সাক্ষাৎকারে বলেছেন ইমরুল।

যদিও ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না তাঁর। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে নিয়মিত নিজেকে পরিণত করার স্পৃহার মধ্যে থাকলেও গত বছরে দক্ষিন আফ্রিকা সফরের পরেই জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন তিনি।

এরপরে এনামুল হক বিজয় বা এখন লিটন দাসরা একের পর এক সুযোগ পেলেও একেবারেই সুযোগ পাচ্ছেন না ইমরুল। একারণে হতাশায় ভুগতেই পারেন তিনি!

কেননা দক্ষিন আফ্রিকা সিরিজেও বাদ পড়ার মত খারাপ করেননি তিনি। ‘আমার আসলে প্রমান করার কিছু নেই। আমি নয় বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। প্রায় প্রতি দলের বিপক্ষেই আমি রান করেছি। হয়তো কিছু প্লেয়ারের কপাল খারাপ থাকে। একটু দুর্ভাগা হয়ে থাকে। হয়তো এটা আমার ক্ষেত্রেই হচ্ছে।

‘আমি কোন না কোন কারনে দলের বাইরে থাকি। আসলে আমি এইসব নিয়ে এখন ভাবি না। যখনই সুযোগ পাই, দলের জন্য খেলার চেষ্টা করব। যতদিন ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা আছে, ততদিন নিজেকে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত রাখতে চাই,’ জানিয়েছেন ইমরুল।

হয়তো এমন নির্ভার ইমরুলের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। এবারের এশিয়া কাপে হুট করেই খুলনা (যেখানে তিনি চারদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছিলেন) থেকে আরব আমিরাতে পাঠানো হল তাঁকে।

সেখানে পৌঁছানোর এক দিন পরেই ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খেলতে নেমে অপরাজিত ৭২ রানের দারুন এক ইনিংস খেললেন। তাও খেলতে নেমেছেন ছয় নম্বরে, যে পজিশনে আগে জীবনেও খেলেননি তিনি!

কিন্তু সবকিছুতেই ‘প্রথম’ বলে একটা কথা থাকে। ইমরুলের জন্যও হয়তো ৭২ রানের ইনিংসটি অনেক কিছুর শুরু হতে পারে।ইমরুলের দ্বিতীয় অধ্যায় থেমে গিয়েও থামেনি, এ যেন রবীন্দ্রনাথের ‘ছোটোগল্পের’ সংজ্ঞা, “শেষ হয়েও হইল না শেষ…”ইমরুলরা রাঙিয়ে দিক, যেন পরিশ্রম, অধ্যবসায়ের মূল্যায়ন করতে শেখে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটাররা।

আর ভিভ রিচার্ডস তো বলেছেনই, ব্যাটসম্যানদের স্বর্ণযুগের সময়ের কথা। অজি কিংবদন্তী স্যার ডন ব্র্যাডম্যান থেকে হালের ভিরাট কোহলি পর্যন্ত, সকলের জন্যই সত্য রিচার্ডের এই কথা। সত্য হোক ইমরুল কায়েসের জন্যেও!-স্পোর্টঅাওয়ার২৪