বাংলাদেশের জয় নিয়ে যা লিখেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া

এক অঘোষিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ায় ফলাও করে খবর প্রকাশের পাশাপাশি হাইলাইটস করেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়াও।

বিবিসি লিখেছে, সুপার ফোরের ম্যাচটি যেন অঘোষিত এক সেমি ফাইনাল হয়ে উঠেছিল, যেখানে ৩৭ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেটের সর্বাধিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো লিখেছে, মুশফিকুর রহিম ও মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশকে তুলে নিয়ে গেল ফাইনালে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, পূর্ণ শক্তিশালী দল না হয়েও বাংলাদেশ হিসাব, ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে শক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়েছে।

‘পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ’ শিরোনামের খবরে জি নিউজ লিখেছে, তামিম ইকবাল না থাকায় এমনিতেই টালমাটাল অবস্থা দলের। ম্যাচের আগে সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে আরো বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। পাঁজরের ব্যথা আর ক্র্যাম্প নিয়ে মুশফিকুর রহিম খেললেন আর একটি অসাধারণ ইনিংস। অতিমানবীয় ক্যাচ নিয়ে দলকে তাতিয়ে দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা। সঙ্গে মুস্তাফিজুরের আগুনে বোলিং আর মিঠুনের ব্যাটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই এগারো বাঙালির। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।

আনন্দবাজারের শিরোনাম ছিল- ‘বিদায় পাকিস্তান, ফাইনালে বাংলার বাঘেরা’। খবরটির একটি অংশে লেখা হয়েছে – শেখ জাইদ স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সে ঢুকে ওয়াকার ইউনিস যেন আরো বেশি অবাক হয়ে গেলেন। ঘরভর্তি সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, ‘কী ব্যাপার, আজ এখানে এত লোক! বাংলাদেশ কি ধরেই নিয়েছে পাকিস্তানকে হারিয়ে দেবে?’ ঠিক পিছনেই ছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার আতাহার আলি। তার দিকে ফিরে হেসে বলে উঠলেন, ‘কী ব্যাপার, তোমরাই জিতবে, ধরে নিয়েছ নাকি?’ কেউ ধরে না নিলেও ওয়াকার ঠাট্টাচ্ছলে যা বলেছিলেন, দেখা গেল সেটাই সত্যি হল দিনের শেষে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে- দৃঢ়চিত বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে। মুশফিকুর রহিমের এক রানের জন্য সেঞ্চুরি না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এ স্কোর বাংলাদেশের জয়ে বিশেষ অনুসঙ্গ হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রকাশনা এই সময় লিখেছে- বোলাররা বাংলাদেশে অল্প রানে বেঁধে রাখলেও, ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ফের ডুবল পাকিস্তান। ইমাম-উল-হকের ৮৩ ও আসিফ আলির ৩১ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কারো রান নেই।

পাকিস্তানের ডন পত্রিকার শিরোনাম- দুর্ভাগ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট দল, এশিয়া কাপ থেকে বিদায়।

পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের শিরোনাম- উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ এশিয়া কাপ থেকে বিদায় করে দিল পাকিস্তানকে।

আবুধাবিতে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের এই ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করে ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

জবাবে ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ২০২ রান করে পাকিস্তান। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের টানা চতুর্থ জয়।

এদিকে, বাংলাদেশের দুই নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় তামিম এবং সাকিব না থাকায় বাংলাদেশ নিজেদের পূর্ণ শক্তি ছাড়াই খেলতে নামে।

তারপরেও ১৮ রানে পাকিস্তানের তিনটি উইকেট শিকার করে শুরুতেই তাদের চাপের মধ্যে ফেলে দেয় বাংলাদেশ।পুরো ম্যাচেই ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং এ বাংলাদেশ দারুণ করেছে বলে প্রশংসা করছে ক্রিকইনফো।