শেষ ওভার নিয়ে যা বললেন মাশরাফি

ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের শেষ ২ ওভারে যখন ১১ রান প্রয়োজন তখন ৪৯তম ওভার করার জন্য মোস্তাফিজের হাতে বল তুলে দিলেন মাশরাফি। আর এ সিদ্ধান্তটা নিতে মাশরাফিকেও ভাবতে হয়েছে। কারণ মোস্তাফিজকে দিয়ে ৪৯তম ওভার করালে খেলা শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ালে শেষ ওভারটা কাকে দিয়ে করাবেন। সবকিছু বিবেচনা করে মোস্তাফিজকে দিয়েই ৪৯তম ওভারটা করালেন। মোস্তাফিজও প্রতিদান দিলেন। মাত্র ৩ রান দিলেন, উইকেটও নিলেন ১টি। তাতে শেষ ওভার পর্যন্ত খেলাটা বেঁচে থাকল। এ নিয়ে পরে মাশরাফি ব্যাখ্যা দিলেন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচটা জিততে শেষ ওভারে ৮ রান লাগত আফগানদের। মোস্তাফিজুর রহমান দিয়েছিলেন মাত্র ৪ রান। এতে বাংলাদেশ জিতে যায় ৩ রানে।

কিন্তু এ দলটা আফগানিস্তান না, এটা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। যাদের রয়েছে অভিজ্ঞতা, শেষ ওভারে কিভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হয় ভারত এটা ভালো করেই জানে।

এখানে শেষ ওভারের জন্য মোস্তাফিজকে রেখে দিতে গেলে ম্যাচটা আরও আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত। হয়তো শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ গড়াইতো না। শেষ ২ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১১ রানের। এক ওভারেই খেলা শেষ হয়ে যেতে পারে। মাশরাফি তাই ৪৯তম ওভারটা করতেই বল তুলে দিলেন মোস্তাফিজের হাতে।

কিন্তু শেষ ওভারটা যে করতে হলো মাহমুদউল্লাহকে। সৌম্য সরকারের কথাও ভাবা হয়েছিল। বল হাতেও নিয়েছিলেন সৌম্য। পরে মাশরাফি মত বদলে মাহমুদউল্লাহকে ডাকেন। সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ কেউই নিয়মিত বোলার নন।

অন্যদিকে নিয়মিত বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজ, রুবেল ও নাজমুলের বোলিং কোটা শেষ। এমনকি মাশরাফির নিজের কোটাও শেষ। ওভার ছিল শুধু মেহেদী হাসান মিরাজের।

মিরাজ এদিন ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়েছেন। যে কারণে মাশরাফি মিরাজকে শেষ ওভারে আনার সাহস পাননি। এনিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘প্রথম ইনিংসে বল যেভাবে স্পিন করেছে, তাতে আমাদের স্পিনারদের আরও আশা করেছিলাম। মিরাজ এই টুর্নামেন্টে সেরা বোলার, রিয়াদও (মাহমুদউল্লাহ) গত ম্যাচে খুব ভালো বোলিং করেছেন। আজ তারা আরেকটু ভালো করতে পারত।’

প্রতিপক্ষের স্পিনাররা ভালো বোলিং করলেও বাংলাদেশের স্পিনাররা কাঙ্খিত বল করতে পারেননি। মাশরাফি বলেন, ওদের যখন সাড়ে ৫ রান করে লাগে, তখন আমি মিরাজকে এনেছি। রিয়াদকে এনেছি। তখন কেউ যদি দুইটা ওভারও ভালো বোলিং করে দিত, তাহলে খুব ভালো হতো। একজন স্পিনার ভালো করলেও ৪৬ নম্বর ওভার থেকে আমি রুবেল ও মোস্তাফিজকে শেষ পর্যন্ত বোলিং করাতে পারতাম। তাহলে হয়তো ভারতের কাজটা অনেক কঠিন হতো। কারণ, ওদের বোলিংয়ে অনেক ভ্যারিয়েশন আছে।’

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেছিলেন দুইশ ৬০-৭০ হলেই ম্যাচে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। তার কথাই সত্য বলে প্রমাণিত হল। বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে ২০-৩০ রান বেশি করতে পারলেই হয়তো ম্যাচের ফলাফলটা অন্যরকম হতে পারত।

আম্যাম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তসহ ম্যাচটা যে শেষ বল পর্যন্ত গড়িয়েছে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন লিটন কুমার দাস।