রিয়াদকে ‘শেষ ওভার’, কারণ জানালেন মাশরাফি

এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ২২২ রানের পুঁজি নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। আর এতো কম রানের পুঁজি দিয়ে ভারতের মত একটা দলকে হারানো কঠিন।কিন্তু বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিং তাণ্ডবে ভারতের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়।

আর ভারতকে জিততে ৫০ ওভারে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।এর আগে ২২৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুটা বাংলাদেশের মত হয়নি ভারতের। ৩৫ রানের মাথায় নাজমুল ইসলাম অপুর বলে সৌম্যের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেয় ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ান।

১৪ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় উইকেট পেতে আর বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। মোস্তাফিজ এনে দেন দ্বিতীয় ব্রেক থ্রো।বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভারতীয় কোন ব্যাটসম্যানেই হাফসেঞ্চুরি করতে পারেনি।

কিন্তু বাংলাদেশের রানের পুঁজি কম থাকায় শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয়। আর তৃতীয় বারের মত কোন টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারল টাইগাররা।তবে ফাইনালে বাংলাদেশ হারলে ভারতকে জিততে ৫০ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হয়।

যার মূল ভূমিকায় রয়েছে অধিনায়ক মাশরাফির অভাবনীয় সিদ্ধান্ত। খেলার তখন ৪৮ ওভার শেষ। বাকি আছে ২ ওভার। ভারতদের জিততে প্রয়োজন ১১ রান। তখনি মাশরাফি ৪৯ ওভারে বল তুলেন দিলেন মোস্তাফিজের হাতে। আর মোস্তাফিজও তার প্রতিদান দিলেন।

মাত্র ৩ রান দিয়ে তুলে নিলেন ১ টি উইকেট।মোস্তাফিজকে ৪৯ ওভার দেওয়ার ফেছনে রয়েছে এক বিশেষ কারণ। কেননা ৪৯ ওভার অন্য কাউকে দিয়ে করালে হয়তো শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচটা গড়াতো না। তাই সব দিকে মাথায় রেখে মোস্তাফিজকে দিয়েই ৪৯তম ওভারটা করালেন অধিনায়ক।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তান বাংলাদেশের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচটা জিততে শেষ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৮ রান। আর মোস্তাফিজুর রহমান দিয়েছিলেন মাত্র ৪ রান। ফলে বাংলাদেশ জিতে যায় ৩ রানে। কিন্তু আফগানিস্তান আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত এক নয়।

যাদের রয়েছে অভিজ্ঞতা, শেষ ওভারে কিভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হয় ভারত এটা ভালো করেই জানে। আর এ কারণেই মোস্তাফিজকে দিয়ে ৪৯তম ওভারটি করালেন।

তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খেলা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মাশরাফি জানান, এখানে শেষ ওভারের জন্য মোস্তাফিজকে রেখে দিতে গেলে ম্যাচটা আরও আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত। হয়তো শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ গড়াইতো না। শেষ ২ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১১ রানের। এক ওভারেই খেলা শেষ হয়ে যেতে পারে।

যদিও মাশরাফি তাই শেষ ওভারটা করতে সৌম্য সরকারের কথাও ভেবে তার হাতে বলও নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে মাশরাফি মত বদলে মাহমুদউল্লাহর হাতে তুলে দেন।

স্পিনারদের কাছে আরও আশা করেছিলেন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে বল যেভাবে স্পিন করেছে, তাতে আমাদের স্পিনারদের আরও আশা করেছিলাম। মিরাজ এই টুর্নামেন্টে সেরা বোলার, রিয়াদও (মাহমুদউল্লাহ) গত ম্যাচে খুব ভালো বোলিং করেছেন।

আজ তারা আরেকটু ভালো করতে পারত।’

তবে স্পিনাররা আশা অনুযায়ী বল করতে পারেনি জানিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ওদের যখন সাড়ে ৫ রান করে লাগে, তখন আমি মিরাজকে এনেছি। রিয়াদকে এনেছি। তখন কেউ যদি দুইটা ওভারও ভালো বোলিং করে দিত, তাহলে খুব ভালো হতো।

একজন স্পিনার ভালো করলেও ৪৬ নম্বর ওভার থেকে আমি রুবেল ও মোস্তাফিজকে শেষ পর্যন্ত বোলিং করাতে পারতাম। তাহলে হয়তো ভারতের কাজটা অনেক কঠিন হতো। কারণ, ওদের বোলিংয়ে অনেক ভ্যারিয়েশন আছে।’

শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ বল পর্যন্ত গড়িয়েছে। আর বাংলাদেশের আরেকটি স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ফাইনাল জিতে নিল ভারত।