‘ভরসার জায়গা কেবল মুস্তাফিজুর রহমান’

কলম্বো আর দুবাই, সাকিব আল হাসান আর মাশরাফি বিন মুর্তজা- আলাদা ভেন্যু, আলাদা অধিনায়ক; কিন্তু ভরসার জায়গায় কেবল মুস্তাফিজুর রহমানই। উইকেট নেওয়া আর রান আটকানো- দুই ফাইনালে দুই অধিনায়কের অভিন্ন চাহিদাই তিনি মিটিয়েছেন; কিন্তু দলীয় খেলার ক্রিকেটে আরও কেউ একজনের ‘মুস্তাফিজ’ হয়ে উঠতে না পারার ব্যর্থতায় বাংলাদেশ হারল দুটি ম্যাচেই। তবে পরাজয়ের হতাশার মধ্যে আলোর ঔজ্জ্বল্য সম্ভবত এটিই যে, মুস্তাফিজ আছেন মুস্তাফিজের মতোই।

এশিয়া কাপের ৫ ম্যাচে পেয়েছেন ১০ উইকেট- রশিদ খানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ শিকার। মাঝের চোটাঘাতে খেই হারিয়ে ফেলার স্মৃতি ঝেড়ে ফেলে মুস্তাফিজ এখন আরও বেশি পরিণত, অনেক বেশি অভিজ্ঞ। কেবল পেস আক্রমণ নয়, সাকিববিহীন বোলিং লাইনআপে ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি এ পেসারই এখন বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণের নেতা।

শুক্রবার দুবাইয়ের এশিয়া কাপ ফাইনালে শেষ দুই ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৯ রানের। মাশরাফির হাতে কাজে লাগানোর মতো ওভার ছিল একটিই- মুস্তাফিজ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে ৭ রান ডিফেন্ড করে ৩ রানে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। শেষ ওভারের চ্যালেঞ্জ জয়ের জন্য তিনিই একমাত্র বিকল্প। কিন্তু মুস্তাফিজকে শেষ ওভারের জন্য রেখে দেওয়ার ম্যাচটা যদি ৪৯তম ওভারেই শেষ হয়ে যায়! আরেকজন মুস্তাফিজ কই যে, তিন-চার রানের বেশি দেবেন না।

নিরুপায় মাশরাফিকে তাই ভাণ্ডারের সেরা অস্ত্রটিই ব্যবহার করতে হয়েছে আগেভাগে। আস্থার প্রতিদান দিয়ে মুস্তাফিজও বল করলেন ঠিক যেমনটি দরকার ছিল। প্রথম বলেই মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন উইকেটে জমাট বেঁধে যাওয়া ভুবনেশ্বর কুমারকে। পরের বলে কোনোরকমে একটি সিঙ্গেল নিলেন কুলদীপ যাদব। কিন্তু তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম- টানা তিন বলেই কেদার যাদবকে আর রান নিতে দিলেন না মুস্তাফিজ। যে কারণে শেষ বলটায় ২ রান হয়ে যাওয়ার পরও শেষ ছয় বলে ৬ রান দরকার হয়ে পড়ল ভারতের।

মুস্তাফিজ মাত্র ৩ রান দিয়ে নিলেন ১ উইকেট, সাকল্যে ১০ ওভারে ৩৮ রানের বিনিময়ে ২। প্রথম শিকারের নামটি আবার এমএস ধোনি। কিন্তু মুস্তাফিজের এই সুনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর শেষের লড়াই আর করা যায়নি। এ বছরের মার্চে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালেও ছিল একই দৃশ্য। শেষ ৩ ওভারে ভারতের দরকার ৩৫ রানের, মুস্তাফিজের বাকি ১ ওভার। টি২০ ফরমেটের খেলায় যা করার আগেই করতে হবে- এমন ভাবনায় সাকিব বল দিলেন মুস্তাফিজের হাতে। সেদিন মানিশ পাণ্ডের উইকেট তুলে নিয়ে ছয় বলে মাত্র ১ রান দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু রুবেল ও সৌম্য ২ ওভারে ৩৪ রান সামাল দিতে না পারায় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। দুটো ঘটনাতে খুব পরিস্কার- মুস্তাফিজকে কত বেশি দরকার বাংলাদেশ দলের।-সমকাল।