দেশবাসীই আমার শক্তি, কারও মুখাপেক্ষী হয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কারও মুখাপেক্ষী হয়ে ক্ষমতায় যেতে চায় না। জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। জনগণ চাইলে ক্ষমতায় যাব, না চাইলে যাব না।কারও মুখাপেক্ষী রাজনীতি করি না আমরা। কোন দেশ ক্ষমতায় এনে দেবে এমন আশায়ও আমি রাজনীতি করি না।যদি বলেন, কারও সহযোগিতা নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে হবে, তাহলে আমি বলব আমার ক্ষমতায় না থাকাই ভালো।যদি দেশের মানুষ আমাদের না চায়, তাহলে আমি ক্ষমতায় থাকতে চাই না।দেশের মানুষ যদি ভোট দেয় তাহলে আছি, না হলে নাই।

জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে বুধবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে পরাস্ত করতে প্রয়োজনে শয়তানের সঙ্গেও ঐক্য করবে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাও ভারতের একটি সংবাদ সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারত যেন আওয়ামী লীগকে সমর্থন না দেয়, এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল থাকবেই।কিন্তু যারা শয়তানের সহযোগিতা চায় তারা নিজেরা কী, তা তো আপনারা সবাই জানেন। যারা শয়তানের সঙ্গে হাত মেলাবে, তাদের সমর্থন দিতে দেশবাসী প্রস্তুুত কি না, সেটাও দেখতে হবে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে বিচারপতি সিনহাকে বিচারাঙ্গনের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দিলেও তিনি তাঁর পদের সম্মান ধরে রাখতে পারেননি। আপীল বিভাগের কয়েকজন বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন, উনি (এস কে সিনহা) থাকলে তারা কোর্টে বসবেন না।সমস্যা কিন্তু সেখান থেকে শুরু।এরপর চিকিৎসা করাতে বিদেশ গেলেন।আমি অবজার্ভ করছি, দেখি শেষ পর্যন্ত তিনি কী করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কারও মুখাপেক্ষী হয়ে রাজনীতি করি না। বিএনপি ভারতে যাচ্ছে, অন্য কয়েকটি দলও যাচ্ছে, তারা বলেছে, আমাদের যেন ভারত সমর্থন না দেয়।কিন্তু আমাদের শক্তি হলো জনগণ। জনগণ আমাদের সমর্থন দেয় কি না, সেটা দেখার বিষয়।২০০১ সালে যখন আমেরিকা গ্যাস কিনে ভারতের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছিল তখন আমি বলেছিলাম আমি জানি না কি পরিমাণ গ্যাস আছে। আমাদের ৫০ বছরের রিজার্ভ আগে রাখতে হবে। আগে নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। তারপর গ্যাস বিক্রির সিদ্ধান্ত।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ‘দুর্নীতির’ বিচার আইনের নিজস্ব গতিতে চলবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ল’ উইল টেক ইটস ওউন ফোর্স। আর কিছু বললে তো বলবেন, বেশি বলি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।-আমাদের সময়।