উইন্ডিজ ক্রিকেটের ‘শত্রু’ আইপিএল?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সেই প্রভাবশালী অধ্যায় এখন ইতিহাসে জায়গা পেয়েছে। সে যেন নিকট অতীতও নয়, হয়ে গেছে সুদূর অতীত। বেতন-ভাতা নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্ব। জাতীয় দলে খেলতে অনীহা। বিদেশি লিগকে প্রাধান্য দেওয়াসহ নানা সমস্যা সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। টি২০ অবশ্য এখনও তারা প্রভাবশালী দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও। অথচ টেস্ট কিংবা ওয়ানেতে নেই সুবাতাস। এর কারণ কী? কাল হুপার বললেন, আইপিএল!

উইন্ডিজ ক্রিকেট দলের বেতন, ঘরোয়া লিগ, কেন্দ্রীয় চুক্তি এগুলোকে দেশের ক্রিকেটের জন্য খারাপ মানছেন সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলরাউন্ডার কার্ল হুপার। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট ধ্বংসের আরও একটি কারণ আইপিএল। ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজে ধারাভাষ্য দিতে বর্তমানে ভারতে আছেন তিনি। দেশের হয়ে ১০২ টেস্ট ও ২২৭টি ওয়ানডে খেলা কুপার প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেশির ভাগ তরুণের চিন্তায় জাতীয় দল থাকে না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে আইপিএলের প্রভাব সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেশিরভাগ তরুণ ক্রিকেটারেরই লক্ষ্য থাকে আইপিএলের কোনো একটা দলের সঙ্গে চুক্তি করা। জাতীয় দল তাদের ভাবনায় খুব একটা থাকে না। চুক্তি হয়ে গেলে জাতীয় দলের প্রয়োজনের সময় সেসব খেলোয়াড়কে পাওয়া যায় না, এমনকি টেস্ট হলেও না।’

ক্রিস গেইল, সুনিল নারিন, কিয়েরন পোলার্ডদের উদাহরণ হিসেবে টানেন কুপার। তিনি বলেন, ‘আইপিএল প্রায় দেড় মাস ধরে চলে। এর কারণে আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি, যেখানে সুনিল নারিনের মতো বোলারকে দলে পাচ্ছি না। যে কিনা নিজের সর্বশেষ টেস্টেও ছয় উইকেট পেয়েছিল। সে হয়তো আর কখনও টেস্টে জার্সি পরবেও না।’

এভিন লুইস ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে হয়তো কথাগুলো বলেছেন কুপার। তার মতে, ‘গেইল ও পোলার্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এভিন লুইসও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে, অথচ টেস্ট খেলার সামর্থ্য তার ছিল। তবে শুধু ক্রিকেটারদের দোষ দেওয়াটাও ঠিক হবে না। দিনশেষে আমাদের আর্থিক নিরাপত্তাটাও গুরুত্বপূর্ণ।’- সূত্র:সমকাল।