ফিজিওর কাছে ব্যাখ্যা চাইবে বিসিবি

 সিরিজের পর সিরিজ খেলছিলেন তিনি। ব্যথা সয়ে; ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন নিয়ে। কিন্তু কত দিন আর! এশিয়া কাপের সময় ঠিকই সাকিব আল হাসানের বাঁ হাতের কনিষ্ঠার ইনজুরি নেয় ভয়াবহ রূপ। দেশে ফিরে ইনফেকশন নিয়ে ভর্তি হাসপাতালে। তা নিয়েই পরশু উড়াল দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত পরে, আপাতত ইনফেকশন সারানোই মূল লক্ষ্য।

জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ব্যথা পেয়েছিলেন সাকিব। মাস দুয়েকের মধ্যে নিদাহাস ট্রফিতে খেলেন শেষ দুটি ম্যাচ। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ, আইপিএল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পূর্ণ সিরিজ—টানা ক্রিকেটের মধ্যে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষে দেশে ফিরে তাই বিমানবন্দরেই গণমাধ্যমকে জানান, যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচার করাতে চান। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের চাওয়ায় সেটি পিছিয়ে দেওয়া হয় আরেক দফা। এশিয়া কাপ খেলতে গিয়ে ইনফেকশন পর্যন্ত হয়ে যায় ওখানটায়। পরশু সেই বিমানবন্দরেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাওয়ার আগে আগে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে গেছেন সাকিব; যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্রিকেটাঙ্গনেই।

‘যদি শুধু সার্জারিটা করা লাগত তাহলে আমার খুব একটা খারাপ লাগত না। যেহেতু এটা অনেক আগের ইনজুরি; আর আমি জানি যে সার্জারি করা লাগবে। মানসিকভাবে সে জন্য প্রস্তুত ছিলাম। এখন আমার সবচেয়ে বড় টেনশনের জায়গা ইনফেকশন। কারণ, ওটা যতক্ষণ পর্যন্ত না জিরো পার্সেন্টে আসবে, কোনো সার্জন হাত দেবে না’—বলে যোগ করেন সাকিব, ‘কারণ তাহলে সংক্রমণ হাড় পর্যন্ত চলে যেতে পারে আর তাহলে পুরো হাত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। এখন মূল ব্যাপার হচ্ছে, কিভাবে ইনফেকশনটা সারানো যায়। অস্ট্রেলিয়ায় আমি ইনফেকশন সারানোর চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি, অন্য কোনো চিকিৎসার জন্য না।’ ইনফেকশন সারানোর পর যদি অস্ত্রোপচার লাগে, তাহলে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই। আগামী জানুয়ারির বিপিএলের কথাই ভাবছেন সাকিব, ‘এখন আগে ইনফেকশনটা দূর করতে হবে। এর পরই আসলে বোঝা যাবে ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে কত সময় লাগবে। আর মূল যে অস্ত্রোপচার করার কথা, সেটি করলে সেরে উঠতে লাগবে ছয় থেকে আট সপ্তাহ। সাধারণত ছয় সপ্তাহ লাগে; সঙ্গে বাড়তি দুই সপ্তাহ ধরা হয়। যদি ছয় সপ্তাহে সেরে উঠি, তাহলে তো বিপিএলের বেশ আগেই ফিট হয়ে যাব।’

অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক গ্রেগ হোয়ে আপাতত দেখবেন কিভাবে সাকিবের আঙুলের সংক্রমণ দ্রুত সারানো যায়। অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত পরে। তবে বাঁ হাতের এই আঙুল আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না বলে জানিয়ে যান সাকিব, ‘ওই আঙুলটা আর কখনো শতভাগ ঠিক হবে না। কারণ, এখানে নরম হাড্ডি, যা আর কখনো জোড়া লাগার সম্ভাবনা নাই। অতএব পুরোপুরি ঠিক হবে না। সার্জারি করে এমন পরিস্থিতি এনে দিতে পারে, যেখান থেকে আমি ব্যাট ভালোভাবে ধরতে পারব, ক্রিকেট খেলাটা চালাতে পারব।’

ইনজুরিতে পড়া আঙুলটা যে আগের মতো হবে না, বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী আগেই জানিয়েছেন তা। সফল অস্ত্রোপচার হলে সেটি ক্রিকেট খেলার মতো জায়গায় আসা নিয়েও সংশয় নেই। তবে সব গোলমাল হয়ে গেছে ওই সংক্রমণে। এত দ্রুত সংক্রমণ হয়ে গেল আর জাতীয় দলের ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহন কিছুই বুঝতে পারলেন না, তা কী করে হয়! তাঁর কাছে জবাবদিহি চাওয়া হবে বলে জানালেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খান, ‘ফিজিও এখন ছুটিতে আছে। ছুটি থেকে ফিরলে অবশ্যই জানতে চাইব, সাকিবের আঙুলের এ ভয়ংকর অবস্থা হলো কেন।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষে ফিরে সাকিব নিজে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বোর্ডের চাওয়া ছিল এশিয়া কাপের পর যেন তা করা হয়। ব্যাপারটিকে দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখতে চান আকরাম, ‘আমরা সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সার্জারিটা এশিয়া কাপের পর হোক। তখন যদি জানতাম আঙুলের এমন ভয়াবহ অবস্থা হবে, তাহলে তো সাকিবকে খেলানোর প্রশ্নই উঠত না। এটি আসলে দুর্ভাগ্যজনক। এখন অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসক কী বলেন, শুনি। ওর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাই করব আমরা।’—-কালের কন্ঠ অনলাইন